বিজ্ঞাপন

রদ্রিগেজ, ওজিল ও ভোজিনহা : বিশ্বকাপ যাদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে

রদ্রিগেজ, ওজিল ও ভোজিনহা : বিশ্বকাপ যাদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ। গোল, নাটক ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয় যেখানে। একই সঙ্গে ট্রান্সফার মার্কেটেও হইচই ফেলে দেয়।

বিশ্বকাপে বীরত্ব দেখিয়ে জীবন মানে ক্যারিয়ার বদলে যাওয়ার উদাহরণ অনেক। সবশেষ কেপ ভার্দের হয়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে ভোজিনহার ভাগ্য বদলে গেল। সম্প্রতি তিনি যোগ দিয়েছেন চিলিয়ান দল কোলো-কোলোতে।

পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগীয় দল থেকে চিলির সবচেয়ে বড় ক্লাবে ৪০ বছর বয়সী গোলকিপারের যাত্রা অনন্য ব্যাপার। কিন্তু বৈশ্বিক মঞ্চে মুগ্ধতা ছড়ানোর পর দলবদলে চমক দেখানো খেলোয়াড় তিনিই প্রথম নন। বিশ্বকাপে চমৎকার পারফরম্যান্স করে বড় দল পাওয়া কয়েকজন খেলোয়াড়ের পরিচয় জেনে নেওয়া যাক!

মার্ক-ভিভিয়েন ফো (ক্যানন ইয়োউন্ডে থেকে লেন্স)

ভোজিনহার মতো মার্ক-ভিভিয়েন ফো ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে অপরিচিত এক নাম ছিল। ১৯৯০ এর ঐতিহাসিক আসরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র আসরটি ক্যামেরুনের জন্য হতাশাজনক হলেও ফো তার অভিষেক টুর্নামেন্টেই দলের অন্যতম সেরা পারফর্ম করেন।

ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নজরে আসেন ফো। এরপর ক্যামেরুনের ক্যানন ইয়োউন্ডে থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে ফ্রান্সের ক্লাব লেন্সে যোগ দেন। চার বছর সেখানে থেকে ক্লাবটিকে প্রথম লিগ শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেন ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে।

গিলবার্তো সিলভা (অ্যাতলেটিকো মিনেইরো থেকে আর্সেনাল)

২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলেন। ব্রাজিল অধিনায়ক এমারসন ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলে শুরুর একাদশে জায়গা হয় তার। এর পরপরই অ্যাতলেটিকো মিনেইরো থেকে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আর্সেনালে যোগ দিয়ে তাদের ‘ইনভিন্সিবলস’ (অপরাজিত) মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। ডাকনাম হয়ে ওঠে ‘দ্য ইনভিন্সিবল ওয়াল’। এছাড়া উত্তর লন্ডন ক্লাবে ছয় বছরে দুটি এফএ কাপও জেতেন তিনি।

হাভিয়ার মাসচেরানো (করিন্থিয়ানস থেকে ওয়েস্ট হাম)

২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর পর ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর নজর কাড়েন হাভিয়ের মাসচেরানো। ২২ বছর বয়সে ওয়েস্ট হামে যোগ দেন। সেখানে খুব বেশি সময় ছিলেন না। ২০০৭ সালেই তিনি লিভারপুলে যোগ দেন এবং ওই বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এসি মিলানের কাছে হারে দল। পরবর্তীতে ২০১০ সালে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে একাধিক শিরোপা জেতেন।

মেসুত ওজিল (ভের্ডার ব্রেমেন থেকে রিয়াল মাদ্রিদ)

২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানিকে তৃতীয় স্থান অর্জনে সহায়তা করার সময় ৪টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ খেলোয়াড় হন। এরপর ২০১০ সালের আগস্টে ১৫ মিলিয়ন ইউরোতে ভের্ডার ব্রেমেন থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন।

পরের তিন বছরে মাদ্রিদে থেকে কোপা দেল রে, লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা জেতেন তিনি। পরে ২০১৩ সালে রেকর্ড ৪২.৪ মিলিয়ন পাউন্ডে আর্সেনালের হন।

হামেস রদ্রিগেজ (মোনাকো থেকে রিয়াল মাদ্রিদ)

২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম তারকা ছিলেন হামেস রদ্রিগেজ। কলম্বিয়ার হয়ে ৬টি গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে তার ভলি গোলটি পুসকাস অ্যাওয়ার্ড পায়। টুর্নামেন্ট শেষেই প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে দলে ভিড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। মোনাকো থেকে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ আরও একাধিক ট্রফি জেতেন তিনি।

ভোজিনহা (শাভেস থেকে কোলো-কোলো) 

কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপ মাতানো ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগ থেকে চিলির অন্যতম সেরা ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিয়েছেন।

স্পেনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গোলপোস্টের নীচে বীরত্ব দেখান তিনি। তাতে তার ৫০ হাজার অনুসারীর ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার বেড়ে হয় ৩ কোটির কাছাকাছি।

ভোজিনহা তার ক্যারিয়ারে স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও সবশেষ পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের দল শাভেসে খেলেছেন। কিন্তু তিনি সবসময় ‘বড় ক্লাবের খেলোয়াড়’ হতে চেয়েছিলেন। 

প্রিমেরা ডিভিশনে ৩৪ শিরোপা ও কোপা চিলিতে ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন দলে যুক্ত হতে পেরে নিশ্চয় গর্বিত ভোজিনহা।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়

জর্জ হাজি - ব্রেসিয়া থেকে বার্সেলোনা (১৯৯৪)

দেজান স্ট্যানকোভিচ - রেড স্টার বেলগ্রেড থেকে লাজিও (১৯৯৮)

কার্লোস সালসিদো - গুয়াদালাহারা থেকে পিএসভি আইন্দহোভেন (২০০৬)

নিকোলাস ওতামেন্দি - ভেলেজ সার্সফিল্ড থেকে পোর্তো (২০১০)

এডিনসন কাভানি - পালের্মো থেকে নাপোলি (২০১০)

সামি খেদিরা - স্টুটগার্ট থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০১০)

কেইলর নাভাস - লেভানতে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০১৪)

এনার ভ্যালেন্সিয়া - পাচুকা থেকে ওয়েস্ট হাম (২০১৪)

এনজো ফার্নান্দেজ - বেনফিকা থেকে চেলসি (২০২২) 

এফএইচএম