বিজ্ঞাপন

রদ্রিকে ‘হাতছাড়া’ করে হতাশ রিয়াল মাদ্রিদ, ক্ষুব্ধ পেরেজ-মরিনিয়ো

রদ্রিকে ‘হাতছাড়া’ করে হতাশ রিয়াল মাদ্রিদ, ক্ষুব্ধ পেরেজ-মরিনিয়ো

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছেন ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিগো হার্নান্দেজ। যেন ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে রিয়ালের জার্সি গায়ে জড়ানো ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে রদ্রি লস ব্লাঙ্কোসদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে রিয়াল শিবিরে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রিয়াল মাদ্রিদ রদ্রির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে এবং বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে। এমনকি এএস–এর বরাতে ফুট মারকাতো জানিয়েছিল, ক্লাবটি রদ্রির সিদ্ধান্তকে সম্মান করে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য শুভেচ্ছা জানায়। তবে স্পোর্ত পত্রিকার দাবি ভিন্ন। তাদের তথ্যমতে, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং প্রধান কোচ হোসে মরিনিয়ো দুজনই রদ্রির সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরেজের ক্ষোভের মূল কারণ তিনি মনে করেছিলেন রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর চুক্তি কার্যত সম্পন্ন হয়ে গেছে। ক্লাবের দুই বিশ্বস্ত কর্মকর্তা হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ এবং জুনি কালাফাত তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে চুক্তি নিশ্চিত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রদ্রি বার্সেলোনার দিকে ঝুঁকে পড়ায় পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়।

অথচ শুরুতে ৩০ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না পেরেজ। তবে বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের পর তিনি মত বদলান। এর আগে রিয়ালের সভাপতি নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী এনরিকে রিকেলমের সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের তালিকায় রদ্রির নাম উঠে আসায় পেরেজ প্রথমে বিরক্ত হয়েছিলেন এবং তাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদও দিয়েছিলেন। তবে অ্যাঞ্জেল সানচেজ এবং কালাফাত বারবার দাবি করেন, কয়েক মাস ধরেই রদ্রির সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত পেরেজও চুক্তিতে সম্মতি দেন।

ক্লাবের ভেতরে কেবল একজনই শুরু থেকে এই ট্রান্সফারের বিরোধিতা করেছিলেন, তিনি হলেন পেরেজের আর্থিক বিষয়ক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মরক্কান ব্যাংকার আনাস লাগরারি। তার যুক্তি ছিল, রদ্রির বয়স ৩০ বছর এবং হাঁটুর গুরুতর চোট ভবিষ্যতের জন্য বড় ঝুঁকি। সব আপত্তি সত্ত্বেও পেরেজ যখন চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখনই শেষ মুহূর্তে রদ্রি বার্সেলোনার দিকে ছুটলেন। ফলে ইয়ান দিয়োমান্দের সাইনিং এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নতুন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আড়ালে চলে যায়।

স্পোর্ত বলছে, দিনটি রিয়ালের জন্য আনন্দের হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ক্লাব কর্মকর্তাদের জন্য হতাশার দিনে পরিণত হয়। বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে হাতছাড়া করায় হাজারও মাদ্রিদ সমর্থক ক্লাবের সমালোচনা শুরু করেন। রদ্রির ঘটনায় পেরেজের চেয়েও বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন কোচ মরিনিয়ো। রদ্রি রিয়ালের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বার্সেলোনায় যাচ্ছেন— এমন খবর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। পরে রিয়াল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন মরিনিয়ো। 

রিয়াল কোচকে জানানো হয়, বর্তমান বাজারে উপযুক্ত মূল্যে মানসম্মত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, তাই নতুন কাউকে দলে আনার পরিকল্পনা নেই। ফলে নতুন মৌসুমেও অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা এবং ফেদেরিকো ভালভার্দের ওপরই নির্ভর করতে হবে রিয়ালকে। পাশাপাশি আর্দা গুলার এবং বার্নার্দো সিলভাকেও ডাবল পিভট ভূমিকায় খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি টানা তৃতীয় মৌসুম, যেখানে রিয়াল মিডফিল্ড শক্তিশালী না করেই মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে। 

মৌরিনহোর মতে, গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হওয়ার কথা ছিল রদ্রি। এমনকি এখনও তিনি একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এবং আরেকজন সেন্টার-ব্যাক দলে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আছেন। এ ছাড়া তিনি আগেই কামাভিঙ্গা, মার্কো অ্যাসেনসিও এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোকে জানিয়েছিলেন যে নতুন মৌসুমে তাদের নিয়মিত খেলার সুযোগ কম হতে পারে। কামাভিঙ্গা ও অ্যাসেনসিও ক্লাবেই থেকে গেলেও মাস্তান্তুয়োনো ধারে (লোন) ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্টিনায় যোগ দেন।

এএইচএস