বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ ঘিরে এফবিআইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য

‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া’র হুমকি পেয়েছিলেন মেসি, ঝুঁকি ছিল রোনালদোরও

‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া’র হুমকি পেয়েছিলেন মেসি, ঝুঁকি ছিল রোনালদোরও

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে সপ্তাহ তিনেক আগে। ওই সময় লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোসহ বিভিন্ন ম্যাচে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মতো হুমকি এসেছিল। সেসব তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুলিশ প্রতিবেদনে। বিশ্বকাপজুড়ে সবচেয়ে বেশি হুমকি ছিল মেসির প্রতি। এমনকি তাকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার মতো শঙ্কাও ছিল!

বিশ্বকাপ চলাকালে এফবিআই ও আইপিসিসি (ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশন সেন্টার) যেসব নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করেছে সেসব নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসিকে হত্যার জন্য আত্মঘাতী হামলার হুমকিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। এ ছাড়া রোনালদোর পর্তুগাল দলের হোটেলের বিস্তারিত তথ্যও খুঁজেছেন কেউ কেউ।

মার্কার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দেন। তিনি জানান, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে হাতে তৈরি বোমা ও একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে হামলা চালাবেন। মেসিকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকিও দেন ওই ব্যক্তি।

আর্জেন্টিনা ও মিসরের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে আবারও একই ধরনের হুমকি সামনে আসে। এক সন্দেহভাজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।’ ওই ম্যাচ চলাকালেই পুলিশ আরেকটি ফোন পায়। সেখানে দাবি করা হয়, গ্যালারির আবর্জনার বাক্সে তিনটি বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে বোমা শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পর সেই হুমকি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোও। তার দলের হোটেল ঘিরে ঘটে ওই ঘটনা। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদোর থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া এক ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তির’ উপস্থিতির কথা ফিফা এফবিআইকে জানায়। এর দু’দিন পর হিউস্টন পুলিশ একই ব্যক্তিকে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।

কানাডার টরন্টোতেও এমন আরেকটি ঘটনা ঘটে। এক ব্যক্তি রোনালদোর সঙ্গে একই লিফটে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি শুধু রোনালদোর সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন।

বিশ্বকাপে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন রেফারিরাও। আর্জেন্টিনা-মিসরের বিতর্কিত ম্যাচ পরিচালনার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ৬ হাজারের বেশি বিদ্বেষপূর্ণ বার্তা পাঠানো হয়। ওই ম্যাচের ভিএআর রেফারি উইলি দেলাজোদও একই ধরনের হুমকির শিকার হন। সেসব হুমকির কারণে ফ্রান্সে তাদের বাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হয়।

এএইচএস