রিয়াল মাদ্রিদকে হাতের তালুর মতোই চেনেন হোসে মরিনিয়ো। তাই নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুতই দলের নিয়মকানুনে সংস্কার আনছেন। শুধু মাঠের কৌশলেই পরিবর্তন না, দলের ড্রেসিংরুম থেকে সব জায়গায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছেন তিনি।
এত দিন রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা অনুশীলন ও দৈনন্দিন জীবনে বেশ কিছুটা স্বাধীনতা পেতেন। নিজেদের সুবিধামতো রুটিন সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগও ছিল। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিনিয়ো এসে সেই আরামদায়ক পরিবেশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। তার নতুন নিয়মের আওতায় এসেছে খেলোয়াড়দের জীবনযাপনের নানা দিকও।
খাদ্যাভ্যাস, চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া কিংবা অনুশীলন মাঠে পৌঁছানোর সময়ানুবর্তিতা—সবকিছুতেই এখন নতুন নিয়ম। মরিনিয়োর কাছে দল মানে শুধু মাঠে একসঙ্গে খেলা ১১ জন নয়; বরং মাঠের বাইরের প্রতিটি অভ্যাসও দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের প্রকাশ করা একটি ছবিতে পুরো স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফকে একসঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা গেছে। মরিনিয়োর দায়িত্ব নেওয়ার আগে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু তার কাছে এটি নিছক একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়া নয়; বরং দলের বন্ধন আরও শক্ত করার একটি উপায়।
‘এএস’-এর সূত্রের ভাষ্য, ‘তিনি দলের ভেতরের একতা ও সখ্য বাড়াতে চান, যা সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর।’ দলের ভেতর থেকে আসা আরেকটি বার্তাও বেশ ইতিবাচক, ‘দলের সার্বিক আবহ এখন দারুণ, চমৎকার!’
কঠোরতা শুরু খাবারের টেবিল থেকে
মরিনিয়োর কঠোরতার একটি বড় অংশ শুরু হয়েছে রান্নাঘর থেকেই। খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাসে এসেছে নতুন নিয়ম। এখন খাদ্য পুষ্টিবিদের কাজ কেবল পরামর্শ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে বিকেলের হালকা খাবার—সবকিছুর মেনু তিনিই ঠিক করে দেন। আর সেই মেনু তৈরি হয় খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সের প্রয়োজন অনুযায়ী। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এখানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।
জরিমানার বদলে অন্য শাস্তি
মরিনিয়োর নতুন শৃঙ্খলা ব্যবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। নিয়ম ভাঙলে এখন আর সরাসরি আর্থিক জরিমানা করা হয় না। কেউ অনুশীলনে দেরি করে এলে তাকে মূল দলের অনুশীলন থেকে আলাদা করে একা জিমে কাজ করতে হয়। অনুশীলন শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে খেলোয়াড়দের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে উপস্থিত থাকতে হবে। সময়ের ব্যত্যয় ঘটলে শাস্তি নিশ্চিত।
চোটও এখন ব্যক্তিগত বিষয় নয়
চোট থেকে ফিরে আসার প্রক্রিয়াতেও মরিনিয়ো এনেছেন কড়াকড়ি। কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত ট্রেনারের অধীনে কাজ করলেও পুনর্বাসনের পুরো প্রক্রিয়া এখন সকাল-বিকেল ভালদেবেবাস বা রিয়ালের ট্রেনিং গ্রাউন্ডেই সম্পন্ন করতে হবে। বাইরের কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে পুনর্বাসন নেওয়ার সুযোগও অনেকটাই সীমিত করা হয়েছে। ক্লাবের চিকিৎসক ও স্টাফদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এর কিছু অংশ আগেও অনুসরণ করা হতো।
আগামী ২২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরু করবে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটি। সেই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো দেখা যাবে, মরিনিয়োর নতুন নিয়মে বদলে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে কেমন ফুটবল উপহার দেয়।
এইচজেএস
