জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আর ফিফা প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে দেখতে চান না, এমন লোকের সংখ্যা দীর্ঘ হচ্ছে। লা লিগা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাস দাবি করছেন, বর্তমান ফিফা প্রধান ফুটবলের ‘মূল সত্তাকে ধ্বংস করছেন’। তার বিশ্বাস, ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইনফান্তিনোর সময় শেষ হয়ে এসেছে।
ফিফার সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করার ব্যর্থ পরিকল্পনা নিয়ে তোপের মুখে আছেন ইনফান্তিনো। ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না তিনি। উয়েফা ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংস্থাগুলো তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। তার ওপর চাপ আরও বেড়েছে, উয়েফার মহাসচিব থাকার সময় এক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওঠার কারণে। ইনফান্তিনো অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৩ সাল থেকে লা লিগার প্রেসিডেন্ট পদে থাকা তেবাস সবশেষ ব্যক্তি হিসেবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চাইলেন। তার মতে, ফিফা প্রধানের পদটি এখন বেশ নড়বড়ে।
লে মোন্দে-কে তেবাস বললেন, ‘আমার মনে হয়, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে আমি এটা বলছি না। আমি এই ধরনের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে খেয়াল করেছি, যদিও মনে হচ্ছে সবাই কেবল এটা আবিষ্কার করেছে।’
তিনি বলে গেলেন, ‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এমন কেউ নন, যিনি ফুটবলের উন্নয়নে অবদান রাখেন। বরং তার প্রকল্পগুলো ফুটবলের মূল সত্তাকে ধ্বংস করছে: জাতীয় লিগগুলো। ফুটবল শুধু অভিজাতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমার মতে, ইনফান্তিনো যুগ শেষ।’
তেবাস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কাউকে দেখার অপেক্ষায়, ‘এখন দেখার বাকি কখন এটা কার্যকর হয় এবং তার উত্তরসূরি কীভাবে নির্বাচিত হন। আমি আশা করব এটা কেবল একটা লোকের জায়গায় আরেকজনকে আনার মতো ব্যাপার হবে না, আমূল পরিবর্তন হবে।’
ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত পরিকল্পনার জন্য ক্ষমা চাইলেও উয়েফা বিশ্বকাপ বয়কট করার অবস্থানে অনড়। এনিয়ে তেবাস বলেন, ‘যা ঘটছে, তা আমাকে অবাক করছে না। আমাকে অবাক করে অনেক মানুষের প্রতিক্রিয়া, যারা বছরের পর বছর ধরে চুপ করে ছিল।’
তার আরও কথা, ‘এই ঘটনাটি ফিফা নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এবং বৃহত্তর অর্থে ফুটবল জগতে যা কিছু ঘটে চলেছে, তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র; যেখানে কোনো প্রকৃত সুশাসন নীতি নেই। এবং সমস্যাটি কোনো একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা সম্পর্কিত।’
তার আসা ফিফা নতুন রূপ ফিরে পাবে, ‘মানুষ বদলালেও পুরোনো ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে। আশা করি, পরিস্থিতির সত্যিই পরিবর্তন হবে। একজন নতুন নেতা আসবেন এবং ফিফাতে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’
এফএইচএম
