টালমাটাল একটি বছরের পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সফরের জন্য ভারত সরকারের অনুমোদন ও স্পষ্ট নির্দেশনা চাইতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)।
বিসিসিআই-এর একটি শীর্ষ সূত্র ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ড নিজস্বভাবে এই সফরের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং সরকারের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে।
সূত্রটি জানায়, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি এবং বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে সরকারের অনুমতি ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চাইব। এই মুহূর্তে নিজস্বভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আমরা দ্রুতই সরকারের দ্বারস্থ হব।’
সূত্রটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ বিষয়ে বিসিসিআইকে চিঠি পাঠিয়েছে এবং প্রস্তাবিত সিরিজটি নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘বিসিবি আমাদের চিঠি দিয়েছে এবং তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। শিগগিরই এ বিষয়ে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।’
ভারতের বিপক্ষে প্রস্তাবিত এই দ্বিপাক্ষিক সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য বিসিবি ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি সময়সূচি তৈরি রেখেছে। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওয়ানডে ম্যাচগুলো ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৮ আগস্ট ভারতীয় দলের বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে পুরো সফরটি ভারত সরকারের অনুমোদন ও নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটেই এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূল সংকট তৈরি হয় গত জানুয়ারিতে, যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের আইপিএল ২০২৬ দল থেকে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আইপিএল নিলামে মুস্তাফিজুরকে ৯.২০ কোটি রুপিতে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং ওই আসরের নিলামে তিনিই ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার। পরবর্তীতে বিসিসিআই-এর নির্দেশে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিসিসিআই সম্পাদক দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, দুই দেশের ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির’ আলোকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বাংলাদেশে। কিছুদিন পরই বিসিবি জানায়, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শে তাদের জাতীয় দল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। একই সঙ্গে তারা আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু ভারত তাদের অনুরোধ আমলে নেয়নি। তাতে বিশ্বকাপেও অংশ নেয়নি বাংলাদেশ।
এই বিরোধ কেবল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুস্তাফিজ বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার এবং প্রচারণার ওপর অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ জারি করে।
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। এটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পুনঃনির্ধারণ করা হয়। তখন বিসিসিআই ও বিসিবি যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা ও সূচির সুবিধাকে কারণ দেখালেও এই সিদ্ধান্তটি এসেছিল দুই দেশের মধ্যকার সার্বিক কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
ফলে পরিবর্তিত এই সফরটি দুই প্রতিবেশীর ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সফরটি সফল করতে এবং স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে বিসিবি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিসিসিআই-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে গত এক বছরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতে ক্রীড়া কূটনীতিকে কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশ।
এফএইচএম
