বিশ্বের অন্যতম ধনী ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দেওয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। এখানে তারকার যেমন অভাব নেই, তেমনি অর্থেরও ঝনঝনানি শোনা যায়। প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারদের একাদশেও তারার মেলা!
৪-৩-৩ এ সাজানো এই দলের একাদশে জায়গা হয়নি ওমর মারমুশ, কাই হাভার্টজ, ফিল ফোডেন কিংবা আলেক্সান্ডার ইসাকের মতো তারকাদেরও। তাদের সাপ্তাহিক আয় প্রায় ৩ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি।
গোলপোস্টে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। গত গ্রীষ্মে মাত্র ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে টেনেছিল সিটি। সপ্তাহে ৩ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড আয় করে প্রিমিয়ার লিগের গোলরক্ষকদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ বেতন পান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিভারপুলের অ্যালিসনের চেয়ে তার আয় ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড বেশি।
রক্ষণে অবশ্য কিছুটা ‘বেতনের খেলা’ খেলতে হয়েছে। ডান পাশে স্বাভাবিক ফুলব্যাকের বদলে লিভারপুলের দোমিনিক সোবোসলাই। সপ্তাহে ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করা হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার গত মৌসুমে ৮ ম্যাচে রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছেন। তার পাশে আছেন আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবা। সাপ্তাহিক ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করা ফরাসি ডিফেন্ডার সাম্প্রতিক সময়ে আর্সেনালের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক পান সপ্তাহে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। প্রিমিয়ার লিগে তার চেয়ে বেশি আয় করেন কেবল একজন। বহু বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে বিবেচিত ফন ডাইক তাই এই একাদশে অনিবার্য। বাঁ দিকে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির ইয়োশকো গাভারদিওল। তার বেতনও ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। মূলত সেন্টারব্যাক হলেও পেপ গার্দিওলা তাকে লেফটব্যাক হিসেবেও নিয়মিত ব্যবহার করেছেন।
মাঝমাঠে লিভারপুলের রায়ান গ্রাভেনবার্খ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও ম্যানচেস্টার সিটির জ্যাক গ্রিলিশ। গ্রাভেনবার্খের সাপ্তাহিক আয় ২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড। লিভারপুলের ২০২৪-২৫ মৌসুমের শিরোপাজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
ফার্নান্দেজ পান সপ্তাহে ৩ লাখ পাউন্ড। সাধারণত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও মাঝমাঠ থেকেও আক্রমণ তৈরির অভিজ্ঞতা আছে তার। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২১টি অ্যাসিস্ট করে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন ইউনাইটেড অধিনায়ক।
আর ৩ লাখ পাউন্ড বেতনের গ্রিলিশের জায়গাটা কিছুটা চমকপ্রদ। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ট্রেবল জয়ের মৌসুমে সাফল্য পেলেও পরে এভারটনে ধারে গিয়ে চোটের কারণে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। নতুন মৌসুমে আবার সিটির দলে জায়গা করে নেওয়াই তার লক্ষ্য।
আক্রমণভাগে ডান পাশে আর্সেনালের বুকায়ো সাকা। সপ্তাহে ৩ লাখ পাউন্ড আয় করা ইংলিশ উইঙ্গার গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ গোল করেছেন—২০২০-২১ মৌসুমের পর যা তার সর্বনিম্ন। বাঁ পাশে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মার্কাস রাশফোর্ড। সপ্তাহে ৩ লাখ পাউন্ড আয় করা রাশফোর্ড বার্সেলোনায় ধারে গিয়ে ক্যারিয়ারে নতুন গতি পেয়েছেন। স্পেনের ক্লাবটিতে স্থায়ী হতে না পারলেও সেই সময়ের পারফরম্যান্স তাকে ইংল্যান্ড দলে ফিরিয়েছে। বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে তার গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান দুটি।
স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড। সপ্তাহে ৫ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করে তিনিই প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া খেলোয়াড়। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডে পা রাখার পর লিগে ১৩২ ম্যাচে করেছেন ১১২ গোল। এভাবে চলতে থাকলে আরও অনেক রেকর্ডই তার নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
সব মিলিয়ে এই একাদশের খেলোয়াড়দের এক ম্যাচের জন্য মাত্র এক সপ্তাহের বেতন দিতে হবে ৩৩ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড।
এইচজেএস
