বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করতে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া অলরাউন্ডার

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করতে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া অলরাউন্ডার

গত বছরের শুরুতে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল বেউ ওয়েবস্টারের। মাত্র আট টেস্ট খেলেই উত্থান-পতন দেখা হয়ে গেছে অনেক। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মিশনে অস্ট্রেলিয়ার সেরা একাদশে নিজের জায়গা শক্ত করতে চান তিনি।

অস্ট্রেলিয়া অলরাউন্ডারের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে দেখাতে চান, কেন তিনি দলের যোগ্য একজন খেলোয়াড়। গত বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স করেন ওয়েবস্টার। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সেই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অজিরা।

কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজের লড়াইয়ে বাদ পড়েন ওয়েবস্টার। ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস ও উসমান খাজার মতো খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দেওয়ার কারণে ঢাকা পড়ে যান তিনি। সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে পুনরায় ডাক পান। ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং তিনটি উইকেট নেন। তাতেই আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য নির্বাচকদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। মঙ্গলবার ওয়েবস্টার বললেন, ‘আমার অভিষেকের পর থেকে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটি আমি শিখেছি, তা হলো এই পর্যায়ে খেলার জন্য আমি যথেষ্ট ভালো।’

তিনি আরও বলে গেলেন, ‘বিষয়টি আসলে কখনোই আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। প্রথম টেস্টের আগে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘তুমি কি নিজেকে প্রস্তুত মনে করছ?’। আমি নিজেকে এই বলে ফাঁকি দিচ্ছিলাম যে, ‘অবশ্যই’। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নামা, অন্য দেশের বোলারদের মুখোমুখি হওয়া, বিপুল দর্শক আর চাপযুক্ত বড় মুহূর্তে পারফর্ম করার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত আপনি সত্যিই তা অনুধাবন করতে পারবেন না। গত ১২ মাসে আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল এটিই যে, আমি প্রমাণ করতে পেরেছি যে আমি তৈরি।’

নিজেকে ব্যাটার হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন ওয়েবস্টার, ‘আমি রান করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এই দলে জায়গা করে নিয়েছি... একজন ব্যাটার হিসেবে মূলত রান করাই হলো আসল কাজ, আর সেটাই দলে আসার এবং টিকে থাকার আমার মূল পথ। আমার খেলা প্রথম আট টেস্টে ব্যাটিংয়ে আমি যা করেছি, তা থেকে সম্ভবত এটাই স্পষ্ট হয় যে আমাকে একটি দলের প্রথম ছয়জন ব্যাটারের একজন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।’

অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপে ওয়েবস্টারের জায়গা কোথায় হয় সেটাই দেখার অপেক্ষা। বাংলাদেশের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশে অস্ট্রেলিয়া নির্বাচকরা তাদের লাল বলের সব প্রতিভাবান তারকাকে রাখার চেষ্টাই হয়তো করবেন। এশিয়ান দেশটির বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া ১৩ খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে রেখেছে। একাদশে অলরাউন্ডার গ্রিনের সঙ্গে নিজেকেও না দেখার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না ওয়েবস্টার।

এই অলরাউন্ডার বললেন, ‘আমি তো কোনো বাধা দেখছি না। প্রথম সাতজনের মধ্যে বল হাতে বাড়তি বিকল্প থাকা অবশ্যই সুবিধাজনক, আর আমি এটাকে মোটেও কোনো সরাসরি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছি না। আমরা দুজনই যদি ব্যাটিংয়ে নিজেদের সেরাটা দিই, যেটা আমাদের প্রধান কৌশল এবং ফিল্ডিংয়ে অবদান রাখতে পারি, তবে তা অধিনায়কের বিকল্প ও সুবিধা বাড়াবে।’

তিনি আরও বললেন, ‘আমি ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে খেলতে পছন্দ করি। সে অথবা আমি বোলিং করছি—এমন সুবিধা থাকলে মূল তিন পেসার বা স্পিনারের বিশ্রামের প্রয়োজন হলে বিকল্প ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করার সুযোগ থাকে। তাই আমি এতে খুবই সন্তুষ্ট।’

দলে নিজের জায়গা পাকা করতে বদ্ধপরিকর ওয়েবস্টার, ‘আমি শুধু নিজের কাজটা করে যেতে চাই এবং নিজেকে এমন এক পজিশনে রাখতে চাই যেন একাদশ থেকে বাদ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে—তা ব্যাটে হোক বা বলে। খেলার সব বিভাগে অবদান রাখতে পারাই আমার বড় গর্বের জায়গা, আর গ্রিনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। কাকতালীয়ভাবে আমরা দুজনই অলরাউন্ডার এবং মূলত ব্যাটার।’

এফএইচএম