ভিডিও প্রযুক্তিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিলো ইউনিয়ন অব ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (উয়েফা)। ক্লিয়ার লাইন নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে তারা। এর মাধ্যমে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কখন এবং কীভাবে হস্তক্ষেপ করবেন, সেটা যে কেউ জানতে পারবেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে যে, ক্লিয়ার লাইন প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে। প্রচুর বিতর্ক সৃষ্টি করা এই প্রযুক্তির কাজ ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনা, খেলা, পদ্ধতি ও প্রয়োগের মানদণ্ড সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে এর মাধ্যমে।
উয়েফার রেফারি কমিটির প্রধান রবার্তো রসেত্তি বলেন, ‘সবাই যে প্রশ্নটি করছেন তা হলো, কখন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির হস্তক্ষেপ করা উচিত? এটিই মূল বিষয়। কেউই সঠিকভাবে জানে না কখন তাদের এটি করা উচিত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রায় ৮ বছরের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন ভিএআর ঘটনা এবং ১০০টিরও বেশি স্পষ্ট ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে আমরা ক্লিয়ার লাইন তৈরি করেছি। এটি এমন একটি নথি যেখানে আমরা ব্যাখ্যা করেছি কখন এবং কীভাবে ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ করা উচিত এবং এটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে সবাই একটি স্পষ্ট নির্দেশনা পেতে পারে। এটি কেবল রেফারিদের জন্য নয়। বরং সমগ্র ফুটবলের জন্য, খেলোয়াড়, কোচ, ভক্ত ও সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট করে তৈরি।’ রোসেত্তির মতে, সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে সক্ষম, এমন ব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভিএআর-এর ভিত্তি।
উয়েফার আরেক কর্মকর্তা ভেলাস্কো কার্বালো এই বৈপ্লবিক টুলটির কাজ করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটি কেবল রেফারিদের জন্য তৈরি কোনো ওয়েব পেজ কিংবা রেফারি সংস্থার জন্য ডিজাইন করা কোনো প্ল্যাটফর্মও নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো মানুষের কাছে আমাদের মৌলিক নীতিগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের পর আমাদের লাইব্রেরির ক্লিপের সাথে তুলনা করার জন্য আমরা এই প্ল্যাটফর্মটিকে একটি রেফারেন্স হিসেবে দেখতে চাই।’
২০২৬-২০২৭ মৌসুম থেকে উয়েফা এই নির্দেশিকা মেনে চলবে। এর উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট। ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম ভুলের চেয়ে কেবল বড় ও স্পষ্ট ভুলগুলোর দিকে মনোযোগ দিয়ে ভিএআরকে কম হস্তক্ষেপকারী এবং আরও বেশি নিখুঁত করে তোলা।
এফএইচএম
