দুর্দশা কাটছেই না ইতালির, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টানা তিনবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তাদের নজর ছিল হেভিওয়েট কোচদের দিকে। কার্লো আনচেলত্তি ‘না’ বলে দেন ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায়। তবে জুনে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া পেপ গার্দিওলার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। ইতালির কোচ হতেও হতেও শেষ পর্যন্ত ‘না’ বলে দেন তিনিও।
ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) গার্দিওলাকে কোচ করার ব্যাপারে বেশ এগিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালান ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি। গার্দিওলাও শুরুর দিকে ইতিবাচক ছিলেন। কিন্তু শেষে পর্যন্ত কেন ইতালির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন না সেটাই জানালেন এফআইজিসি’র এই টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মালদিনি।

ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’কে দেওয়া বিস্তৃত এক সাক্ষাৎকারে মালদিনি বলেন, ‘তিনি (গার্দিওলা) তার কয়েকজন বন্ধুকে জানিয়েছিলেন যে জাতীয় দলের কোচ হতে চান। আমরা তার সঙ্গে বার্সেলোনায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেছি। একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া এবং পুরো একটি দিন কথা বলেছি। তিনি খুবই আগ্রহী ছিলেন। রাজি হওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন ফরমেশনও লিখতে শুরু করেছিলেন কাগজে।’
আলোচনাকালে গুঞ্জন ছিল– গার্দিওলার বিপুল বেতন-চাহিদার কারণেই ইতালির কোচ হওয়ার আলোচনা থেমে যায়। ইতালির সংবাদমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল যে, বছরে ২ কোটি ইউরো বেতন দাবি করেছিলেন স্প্যানিশ এই কোচ। তবে ভিন্ন কথা বলছেন মালদিনি, ‘একদমই না। টাকা কখনোই সমস্যা ছিল না। পেপ আমাদের পরিষ্কারভাবে বলেছিল– আগের কোচ যত বেতন পেতেন, তার চেয়ে এক ইউরো কম দিলেও আমি রাজি।’
তাহলে শেষ পর্যন্ত কেন গার্দিওলা ইতালির কোচ হলেন না? ইতালিয়ান কিংবদন্তি মালদিনি বলেন, ‘ক্লান্তির কারণে (দায়িত্ব নেননি)। গার্দিওলা প্রিমিয়ার লিগে টানা ১০টি কঠিন বছর পার করেছে। তার পিঠে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তিনি বিশ্রাম নিতে চান। তবে আলোচনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে হয়েছিল। আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকে শুরু করে পুরো জাতীয় দলের স্কোয়াড নিয়ে বিশ্লেষণ করেছিলাম।’
এদিকে, গার্দিওলাকে না পেয়ে নিজের সাবেক সতীর্থ আন্দ্রে পিরলোর দিকে নজর দেন মালদিনি। ইতালির জাতীয় দলে তরুণ ও আধুনিক চিন্তাধারার কোচ নিয়ে আসাই ছিল এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য। রক্ষণাত্মক কৌশলের বদলে কারিগরি উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে পিরলোর নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়। এর অন্যতম কারণ ছিল রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক।

মালদিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানতাম না। জনমত নিজের কাজ করেছে। তবে আইনগত দিক থেকে আন্দ্রেকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। কোনো কোনো দিক থেকে বিষয়টি অবশ্যই অতিরঞ্জিত করা হয়েছিল। পিরলো রাশিয়ান ওই বেটিং কোম্পানির সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ করতে প্রস্তুত ছিল।’ শেষ পর্যন্ত পিরলোকে আনতে না পারায় টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদ থেকে সরে দাঁড়ান মালদিনি। এরপর ইতালির কোচ হয়েছেন রবার্তো মানচিনি।
এএইচএস
