বিজ্ঞাপন

পর্তুগালের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা, আছেন বাংলাদেশের নিপুও

পর্তুগালের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা, আছেন বাংলাদেশের নিপুও

২০২৫ সালের মার্চে প্রথম শ্রেণি এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ময়েসেস হেনরিকস। ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে তিন সংস্করণে ৪৪টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার পেছনে ছিল ভিন্ন উদ্দেশ্য। পর্তুগাল টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হওয়ার মাধ্যমে হেনরিকসের সেই লক্ষ্য প্রকাশ্যে এলো।

২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে কি পর্তুগালের জার্সিতে হেনরিকসকে দেখা যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরটা বেশ কঠিন। কারণ তাদের সামনে পথটা বেশ লম্বা। গতকাল (সোমবার) পর্তুগাল টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে অধিনায়কত্বের ভার হেনরিকসের কাঁধে। তার নেতৃত্বে পর্তুগিজরা ইউরোপীয় উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্ব ‘সি’-তে খেলবে।

অবশ্য ময়েসেস হেনরিকসের জন্ম ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শহর মাদেইরাতে। শিশু বয়সে তার পরিবার চলে যায় অস্ট্রেলিয়ায়। সেই দেশের হয়ে ক্রিকেটের হাতেখড়ি এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও গড়েন হেনরিকস। এবার নিজ দেশের হয়ে ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করার পালা।

হেনরিকস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, ১৬টি ওয়ানডে এবং চারটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই তিনি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন। পূর্ণ-সদস্য দেশ থেকে সহযোগী সদস্য দেশে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তিন বছরের বাধ্যতামূলক বিরতি বা ‘কুল-অফ পিরিয়ড’ পার করার পর গত জুন মাসে পর্তুগালের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

dhakapost
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পর্তুগালের স্কোয়াড, ডানে বাংলাদেশের সিরাজউল্লাহ খাদেম নিপু

পর্তুগাল দলে হেনরিকসই বর্তমানে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি অন্য কোনো দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। তবে তাদের দলে এমন খেলোয়াড়ও রয়েছেন যাদের অন্য দেশে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রেইগ ক্যাচোপা নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড উভয় দেশেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। এ ছাড়া পর্তুগালের স্কোয়াডে থাকা সিরাজউল্লাহ খাদেম নিপুর জন্ম বাংলাদেশে এবং মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে ২০০৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে, সেই একই টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন হেনরিকস।

ফিনল্যান্ডের ভান্তা ও কেরাভায় ১০ দলের অংশগ্রহণে এই ‘ইউরোপ সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার সি’ অনুষ্ঠিত হবে। দলগুলোকে পাঁচটি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি গ্রুপের বিজয়ী দল ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। চ্যাম্পিয়ন দল ‘ইউরোপ রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার’-এ খেলবে স্কটল্যান্ড, জার্সি ও ডেনমার্কের বিপক্ষে। সেখানে উত্তীর্ণ দল ‘গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার’-এ জায়গা পাবে এবং ওই কোয়ালিফায়ারই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে কোন দলগুলো ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‍উঠবে।

এএইচএস