এক সময় জাতীয় দলে নিয়মিত মুখ ছিলেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ইনজুরি ও ফর্ম বিবেচনায় তিনি এখন অনেকটাই অনিয়মিত। সেই ইব্রাহিমের একমাত্র জয়সূচক গোলে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূলপর্বে খেলছে ফর্টিজ।
ম্যাচ জয়ের পর ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার মাথায় এটা ছিল না যে ফর্টিজের হয়ে খেলছি। মনে হয়েছে, দেশের জন্য খেলছি। এখানে দেশটাই বড়। দেশের হয়ে অবদান রেখে গোল করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।’
ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে একাধিক গোল রয়েছে ইব্রাহিমের। আজকের গোল নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে এর আগেও গোল করেছি। এটি সেরা গোল নয়, তবে এই ম্যাচ ও মুহূর্তটির গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি। কোচ আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে বলেছিলেন। আমি সেই বিশ্বাস রেখেই নিজের সেরাটা উজাড় করে খেলেছি।’
মুরাস ইউনাইটেড গত মৌসুমে চ্যালেঞ্জ লিগে সেমিফাইনালে খেলেছিল। সেই দলকে এবার প্লে-অফ থেকে বিদায় করেছে ফর্টিজ। গত মৌসুমে আবাহনী ব্যর্থ হলেও ফর্টিজের সফলতার পেছনে কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সারের অবদান অনেক।
সাবেক ফুটবলার কায়সার ছয় বছর ধরে এই দলের সঙ্গে আছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক ম্যাচ জিতে তিনি বলেন, ‘আমার প্লেয়ারদেরকে এটা বলেই উদ্বুদ্ধ করেছি যে এটা একটা চান্স। অনেক কিছু হচ্ছে ফুটবলে উন্মাদনার জন্য, আর একটা কিছু করতে হবে। সো আমি প্লেয়ারদের বলছি, দিস ইজ দ্য রিয়েল চান্স টু গেট সামথিং। আমাদের নিজস্ব এরিয়াতেই, আমাদের নিজস্ব কিংস অ্যারেনাতে।’
ম্যাচের সময় ছিল বিকেল ৩টা। এটাই বড় টার্নিং পয়েন্ট মনে করছেন কোচ, ‘এ টিমের সঙ্গে কোনো না কোনো পার্থক্য আমাদের মাঠে অনেস্টলি বলতে হবে, গরমে ওরা অভ্যস্ত ছিল না। আমাদের প্লেয়াররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। কঠিন কন্ডিশনে আপনারা বাইরে থেকে বুঝতে পারবেন না, ভেতরে গ্রাউন্ড ছিল অনেক সফট আর উপরে ছিল রোদ। বাট প্লেয়াররা হার্ট অ্যান্ড সোল চেষ্টা করেছে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যাওয়ার জন্য যা যা করার তাই করেছে। সো এই জয়টা অবশ্যই প্লেয়ারদের অবদান। আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের টিম ম্যানেজমেন্টকে, যারা আমাকে লাস্ট ১ মাস কীভাবে সহযোগিতা করেছে তা বর্ণনাতীত।’
ইব্রাহিম ঢাকা আবাহনীর হয়ে গত মৌসুমে খেলেছিলেন। এই মৌসুমে আবাহনী এখনও নিষেধাজ্ঞায় থাকায় চুক্তিবদ্ধ হননি। ইব্রাহিমকে এই টুর্নামেন্টে বিশেষভাবে নেওয়ার বিষয়ে কোচের ব্যাখা, ‘আমি কেন ইব্রাহিমকে চয়েজ করেছিলাম যখন আমি ফাহিম বা অন্যদের পাচ্ছিলাম না? আমি চিন্তা করলাম মোরাসের সঙ্গে কারা খেলেছে এই দলে। সো ওখানে ইব্রাহিম খেলেছে এবং আল-আমিন খেলেছে। সো আপনারা বলতে পারেন তাহলে কেন নয় আল-আমিন? আমি আল-আমিনকে ছোট করে হয়তো নিইনি, আমার এক্সপেরিয়েন্সড প্লেয়ার দরকার। আমার এখানে ম্যাক্সিমাম প্লেয়ার ইয়ং। লেফট এবং রাইট উইঙ্গার যে দুজন আছে ওরা একদম নতুন। আমি বুঝতে পারছি এরা কিছু করতে পারবে। সো ইব্রাহিমকে নিয়ে, ইনসানকে নিয়ে, বাবলুসহ চারজনকে নিয়ে আমি ফ্রন্ট লাইন সাজালাম।’
এজেড/এএইচএস
