২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার আমন্ত্রণে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় সাবেক চ্যাম্পিয়ন অজিরা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে এই লড়াইয়ের জন্য দল সাজিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও রয়েছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। একইসঙ্গে অবিশ্বাস্য কিছু করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে উন্নতি ও ফাইনালের সমীকরণে টিকে থাকারও সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে।
বর্তমানে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্র চলছে। ২০২৫–২০২৭ চক্রে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে ৪টি টেস্ট। শান্ত-তাসকিনরা চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৪ ম্যাচ খেলে ২ জয় এবং ১টি করে ড্র ও হার দেখেছে। ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজসহ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশের বাকি আরও ৮ ম্যাচ। এই অ্যাওয়ে সিরিজের পর তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে হোম, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অ্যাওয়ে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে। প্রতিটি সিরিজেই টেস্ট ম্যাচ হবে দুটি করে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পয়েন্ট ২৮, ৬০ শতাংশ পয়েন্ট (ফাইনালের জন্য ন্যূনতম লাগবে) পেতে তাদের আরও ৫৯ পয়েন্ট পেতে হবে।
সেক্ষেত্রে বাকি আটটি টেস্টের মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে জিততে হবে টাইগারদের। চারটি জয় ও দুটি ড্র হলে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়াবে ৫৮.৩৩-এ, যা হয়তো যথেষ্ট হবে না। লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে অন্য দলগুলোকে চমকে দিতে হলে লিটন-মুশফিকদের নিজেদের সেরাটা উজাড় করে খেলতে হবে। এর আগে শুরুটা তারা দারুণভাবেই করেছিল।

চলমান চক্রে শ্রীলঙ্কার মাটিতে গলে ড্র দিয়ে টেস্ট অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে কলম্বোতে তারা দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায়। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল শান্ত’র দল। শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও, তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল সামনে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের (১০ বছর পর) জন্য সিরিজ আয়োজন করবে ঘরের মাঠে।
এদিকে, চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার উপরেই অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার। প্যাট কামিন্সের দল ৮ ম্যাচের ৭টিতে জিতে পেয়েছে ৮৭.৫০ শতাংশ পয়েন্ট। সর্বশেষ চক্রের ফাইনালে তাদের হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারা এখন ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় এবং নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে অবস্থান করছে।
চারে বাংলাদেশ এবং এরপরই অবস্থান ভারতের, শুভমান গিলের দল ৯ ম্যাচ শেষে ৪৮.১৫ শতাংশ পয়েন্ট পেয়েছে। এরপর ৬ থেকে ৯ নম্বরে যথাক্রমে অবস্থান– শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
এএইচএস
