বিজ্ঞাপন

আইরিশ গোলরক্ষকের অদ্ভুত কাণ্ড, নতুন ক্লাবের খোঁজে ঘুরছেন ভ্যান নিয়ে

আইরিশ গোলরক্ষকের অদ্ভুত কাণ্ড, নতুন ক্লাবের খোঁজে ঘুরছেন ভ্যান নিয়ে

স্পেনের আলিকান্তেতে একটি ভ্যানের পেছনের অংশে বসে আছেন গোলরক্ষক মিলো বেইমার্স। দুপুরের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে সেখানেই আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যত গড়ার আশায় এই ভ্যানটিই এখন তার বর্তমান ঠিকানা। নতুন ক্লাব খুঁজে পাওয়ার আশায় ১৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ভ্যানটি নিয়ে নিজেই রাস্তায় বেরিয়েছেন।

বিবিসি স্পোর্টকে বেইমার্স বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এটা দারুণ একটা সুযোগ। আমাকে আটকে রাখার মতো কিছুই নেই। জীবনে যদি কখনও এটা করার সময় হয়ে থাকে, তাহলে সেটি এখনই। নিজেই নিজের সুযোগ তৈরি করতে ভালোবাসি। আমি মূলত একটু ভিন্নভাবে কাজ করতে পছন্দ করি। নিজের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টাটাও ভালো লাগে।’

এ-লেভেল শেষ করার পর আইরিশ প্রিমিয়ারশিপের ক্লাব গ্লেনটোরান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বেইমার্স। ১৩ বছর বয়স থেকে ক্লাবটির সঙ্গে ছিলেন তিনি। এরপর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে নতুন অধ্যায় শুরুর লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেন। বাবা কেভিনের চালানো গাড়িতে বেলফাস্ট থেকে প্রথমে ডাবলিন, সেখান থেকে ফেরিতে ফ্রান্স। এরপর গাড়ি চালিয়ে স্পেনে পৌঁছান তারা। সেখানেই শুরু হয় বেইমার্সের একাধিক ট্রায়ালের প্রথমটি।

বাবা-ছেলে স্পেনের উপকূল ধরে এগিয়ে যাবেন। পরে দেশের ভেতরের দিকে গিয়ে পর্তুগাল সীমান্ত পেরিয়ে লিসবন ও পোর্তোতেও যাবেন তারা। সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার মাইলের সড়কযাত্রা হবে তাদের। উদ্দেশ্য একটাই– মিলোকে একটি নতুন ক্লাব খুঁজে দেওয়া। আগামী কয়েক সপ্তাহের যাত্রাপথের মোটামুটি ধারণা বেইমার্সের জানা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবেন, সেটি এখনও অনিশ্চিত।

এজেন্টের মাধ্যমে স্পেন ও পর্তুগালে বেইমার্সের বেশ কয়েকটি ট্রায়াল ঠিক হয়েছে। এ ছাড়া লন্ডনভিত্তিক একটি ক্লাবের সঙ্গে অনুশীলন করতে ইংল্যান্ডেও দ্রুত একটি সফর করবেন তিনি। অবশ্য ক্লাবগুলোর নাম প্রকাশ করতে না পারলেও স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব হারকুলেসের নাম বলতে পেরেছেন বেইমার্স। সেখানে তিনি ইতোমধ্যে একটি অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়েছেন।

বাকি ক্লাবগুলো স্পেন ও পর্তুগালের শীর্ষ পাঁচ স্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের। এর মধ্যে বয়সভিত্তিক দল যেমন আছে, তেমনি আছে সিনিয়র দলও। ট্রায়ালে দ্রুত মানিয়ে নিতে এবং স্থানীয় সংস্কৃতি বুঝতে স্প্যানিশ ভাষাও শিখছেন বেইমার্স। তার কাছে শুধু ফুটবল নয়, নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। বেইমার্স ও তার বাবা যে ভ্যানে ভ্রমণ করছেন, সেটি তার বোন চার্লির। তিনি বর্তমানে কানাডায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া দাদার সূত্রে তার ডাচ পাসপোর্টও রয়েছে। ইউরোপীয় ক্লাবগুলোতে খেলোয়াড় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এটি তাকে সুবিধা দিচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যানে ভ্রমণ করার বিষয়টিও ক্লাবগুলোর কাছে বেইমার্সের আবেদন বাড়িয়েছে। অন্য খেলোয়াড়দের মতো তার যাতায়াত বা থাকার খরচ ক্লাবগুলোকে বহন করতে হচ্ছে না। বেইমার্স ও তার বাবা শুধু কাছাকাছি কোনো জায়গায় ভ্যানটি থামিয়ে রাত কাটাতে পারেন। এরপর পরদিনই ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত। ট্রায়াল না থাকলে আশপাশের সমুদ্রসৈকতে গিয়ে অনুশীলন করেন তারা। কখনও বাইক নিয়ে চলে যান দুর্গম পথেও।

উত্তর আয়ারল্যান্ডে কানাডীয় বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম বেইমার্সের। ২০২৫ সালে কানাডার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ দলেও খেলেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ খেলতে চান বেইমার্স। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর বিপক্ষে খেলার স্বপ্নও দেখেন তিনি। মজার ছলেই বেইমার্স জানান, ‘আমি বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলতে চাই। ওই বড় ক্লাবগুলোর যেকোনো একটির বিপক্ষে যদি মাত্র একটি ম্যাচও খেলতে পারি, এরপরই অবসর নিয়ে নেব।’

এএইচএস