ভারতের গোয়ায় নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ফুটবল দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমির ওপর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিল সাফ। টুর্নামেন্ট চলাকালেই বাফুফেকে এই সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সেই অভিযুক্ত ব্যক্তির নামই সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে নারী ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে পাঠিয়েছে বাফুফে।
সাফ থেকে টুর্নামেন্টের মাঝ পথেই বাফুফেকে ম্যানেজার সংক্রান্ত বিষয়ে চিঠি দিলেও টুর্নামেন্ট শেষে জুনের প্রথম দিকে এই সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি করে। নির্বাহী সদস্য কামরুল হাসান হিলটনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ একটি কমিটিকে এই সংক্রান্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রথমে সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তী সেই মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হলেও দুই মাস পরও প্রতিবেদন দিতে পারেনি।
নির্বাহী কমিটির সদস্য ও তদন্ত কমিটির প্রধান কামরুল হাসান হিলটন এই বিষয়টি মন্তব্য না করে সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন বারবার। এতে বাফুফের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে রহস্য। তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব আতিকুর রহমান খানিকটা আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘মাস খানেক আগে একটি মিটিং হয়েছিল। সেই মিটিংয়ের বিবরণীর জন্য এখনও অপেক্ষা করছি।’
২০২৫ সালের শুরুতে সাবিনা-বাটলার দ্বন্দ্বে গঠিত বিশেষ কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন আতিকুর রহমান। সাফ নারী ম্যানেজার ইস্যুতে তিনি বেশ নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকলেও কমিটির চেয়ারম্যান হিলটনের নিষ্ক্রিয়তায় কোনো অগ্রগতি নেই। এই তিন সদস্যের কমিটির আরেকজন বাফুফের স্টাফ। এক বেতনভুক্ত স্টাফ সংক্রান্ত অভিযুক্তের তদন্তে আরেক স্টাফ থাকায় কমিটির স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল একের পর এক সাফল্য আনছেন। সেই দলের ম্যানেজারের ওপর ভারতের গোয়ায় টিম হোটেলে মদ নিয়ে প্রবেশ করে শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ করে টুর্নামেন্টের আয়োজক সাফ। প্রায় দুই মাস হয়ে গেলেও বাফুফের তদন্ত কমিটি ঐ বিষয়ে কোনো রিপোর্ট দিতে পারেনি। তদন্তাধীন অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নামই বাফুফে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে প্রেরণ করেছে।
৩০ জুন ছিল এশিয়ান গেমসে কর্মকর্তাদের নাম পাঠানোর ডেডলাইন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কয়েক দিন আগেই ফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে নাম সংগ্রহ করে। বাফুফে তদন্ত কমিটি গঠনের পরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাফের চেয়ে বড় মঞ্চ এশিয়ান গেমসের ম্যানেজার করেছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই। মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণের নির্দেশনা তিনি অনুসরণ করেছেন।
খালিদ মাহমুদ নওমি এক দশক ধরে বাফুফের মিডিয়া বিভাগে কাজ করছেন৷ নারী দলের সঙ্গে মিডিয়া অফিসার হিসেবেই এক দশক বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণের অতি আস্থাভাজন হওয়ায় সম্প্রতি কয়েকটি টুর্নামেন্টে মিডিয়া অফিসারের পরিবর্তে টিম ম্যানেজার হয়েছেন।

জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার সম্মানের পদ। সাধারণত সাবেক ফুটবলার ও সংগঠকরা এই পদে থাকেন। ফেডারেশনের বেতনভুক্ত স্টাফ এই পদে থাকায় নির্বাহী কমিটির অনেকে প্রশ্ন করেছিলেন। সাফের চিঠির পর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে দুই সহ-সভাপতি অনেক জেরাও করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে সভাপতি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কোনো কাজে আসেনি।
নারী দলের ম্যানেজারের অভিযোগের পাশাপাশি মালদ্বীপে অ-২৩ দলের ফুটবলারদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। সেই কমিটি অবশ্য প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
এ নিয়ে কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, ম্যানেজারের বক্তব্যের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। আমাদের দুই ফুটবলারের দোষ রয়েছে, পাশাপাশি মালদ্বীপেরও দায় রয়েছে। আমাদের প্রতিবেদনে মালদ্বীপ ফেডারেশন ও এএফসি’র এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের সুপারিশ রয়েছে।’
এজেড/এমএমএম
