লুইস সুয়ারেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ—এমনটাই ধরে নিয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। ২০২৪ সালে উরুগুয়ের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার পর কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। বয়স এখন ৩৯। তবু জাতীয় দলের দরজা তার জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সম্ভাবনার কথা জানালেন নতুন কোচ দিয়েগো ফোরলান।
উরুগুয়ের অনূর্ধ্ব-২০ ও জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পেয়েছেন ফোরলান। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই উঠেছিল সুয়ারেজের প্রসঙ্গ। সাবেক সতীর্থকে ফেরানোর সম্ভাবনা সরাসরি উড়িয়ে দেননি তিনি।
ফোরলানের ভাবনাটা সহজ। সুয়ারেজ যদি নিজেকে প্রস্তুত মনে করেন, শারীরিকভাবে ভালো অবস্থায় থাকেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবলে ছন্দ ধরে রাখেন, তাহলে জাতীয় দলের দরজা তার জন্য খোলা। গোল করার সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা এবং এখনো নিয়মিত ক্লাব ফুটবল খেলার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখছেন নতুন কোচ।
সুয়ারেজের নিজের ইচ্ছাটাও অজানা নয়। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, উরুগুয়ের ডাক এলে আবারও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রস্তুত। এবার ফোরলানের কথায় সেই সম্ভাবনাই যেন নতুন করে প্রাণ পেল।
উরুগুয়ের সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা সুখকর নয়। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে মার্সেলো বিয়েলসার দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। অন্যদিকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও সুয়ারেজ থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে এখনো নিয়মিত খেলছেন। তাই বয়সের প্রশ্ন থাকলেও সুয়ারেজকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন। বিশেষ করে যখন সামনে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, তখন ৬৯ গোল করা দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার নামটি আবারও আলোচনায় আসাটাই স্বাভাবিক। সুয়ারেজকে ফেরানোর সম্ভাবনার সবচেয়ে আবেগের জায়গাটি হয়তো এখানেই।
ফোরলান শুধু উরুগুয়ের নতুন কোচ নন, সুয়ারেজের পুরোনো সতীর্থও। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ কোপা আমেরিকায় একসঙ্গে খেলেছেন তারা। ২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের সেমিফাইনালে ওঠার পথেও দুজনের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
এইচজেএস
