আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার পথচলা তখন সবে শুরু। টেস্ট ক্রিকেটের নতুন সদস্য হিসেবে শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছিল টাইগাররা। ঠিক এমন সময়ই ২০০৩ সালের মে-জুন মাসের ক্যাঙ্গারু ডেরায় পা রেখেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অপরাজেয় অজি দলের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা কেবল ম্যাচ খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছিল এক উদীয়মান ক্রিকেট জাতির জন্য কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া।
সেই সময়ে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল ছিল অপ্রতিরোধ্য। পন্টিং, গিলক্রিস্ট, হেইডেন, ম্যাকগ্রা এবং ব্রেট লিদের মতো ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলা যেকোনো দলের জন্যই ছিল ভীতিকর। সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন হলেও তা ছিল অভিজ্ঞতা অর্জনের বিশাল এক মঞ্চ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল কেন্দ্রগুলোর বাইরে প্রথমবারের মতো ডারউইন ও কেইর্নসে টেস্ট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়া ও পেসবান্ধব কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের তরুণ দলের জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দুটিতেই বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল মাত্র ৯৭ রান। জবাবে ৪০৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে অজিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগাররা মাত্র ১৭৮ রানে অলআউট হলে ইনিংস ও ১৩২ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইতিবাচক ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন ওপেনার হান্নান সরকার। ৪৬ রান করে করেন হাবিবুল বাশার ও সানুয়ার হোসেন। আর খালেদ মাসুদ পাইলট করেন ৪৪ রান। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৯৫ রানে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া করে ৪ উইকেটে ৫৫৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে হান্নান ফিফটি করলেও ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস এবং ৯৮ রানে হারে বাংলাদেশ।
টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে লড়াই করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। প্রথম দুটি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিজেদের সামর্থ্যের বড় ঝলক দেখায়।
ডারউইনের শেষ ওয়ানডেতে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে করেছিল ২৫৪ রান। আড়াইশোতে আটকে দেওয়া এবং অজিদের সাত উইকেট নেওয়ায় ছিল তখনকার সময়ে অন্যতম বড় সাফল্য। যদিও ম্যাচটি জেতা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ হেরেছিল ১১২ রানে।
২৩ বছর আগের সেই সফরটি হয়তো পরিসংখ্যানের খাতায় পরাজয়ের গল্প বলবে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে এটি ছিল এক বিশাল বাঁকবদল। অস্ট্রেলিয়ার পেশাদারিত্ব, ফিটনেস কালচার এবং তাদের সুসংগঠিত মানসিকতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তৎকালীন তরুণ টাইগারদের।
সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মানসিক ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। আজ ২৩ বছর পর পেছনে ফিরে তাকালে বোঝা যায়, ২০০৩ সালের সেই সফরটি ছিল বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের আজকের অবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর।
এমএমএম/
