সিরিজ চলাকালে মধ্যরাতে বারে যাতায়াত এবং মদ্যপ হয়ে মারধরের মতো ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর মাঠে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় তারা আরও ব্যাকফুটে পড়ে যায়। আর সিরিজের মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আরোপিত হয় মধ্যরাতের কারফিউ। ইংলিশ ক্রিকেটারদের রাতে বের না হওয়ার সেই নির্দেশনা বাতিলে কথা জানিয়েছেন পুনরায় টেস্ট দলের অধিনায়কত্বে ফেরা জো রুট।
কারফিউ তুলে দিলেও সতীর্থদের ‘প্রাপ্তবয়স্কের’ (কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন) মতো আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে মদ্যপান-সংক্রান্ত ঘটনার পর চালু করা কারফিউ চলতি মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া সিরিজ থেকে আর কার্যকর থাকবে না। কারফিউ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজে সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন কারফিউ ভঙ্গ করেছিলেন। এর জেরে মাঠের বাইরের বেশ কিছু পরিবর্তন আসে।
ওই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেননি স্টোকস। পরে তৃতীয় টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন স্টোকস। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন আরেক সাবেক কিউই অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব রুটের হাতে তুলে দেয় ইংল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট অধিনায়ক হলেন ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ সামনে রেখে স্কাই স্পোর্টসকে রুট বলেন, ‘কারফিউ থাকবে না। সত্যি বলতে আমি মনে করি না এটাকে বড় কোনো বিষয় বানানোর দরকার আছে। কারফিউ সম্পর্কে আমার মত হলো, এগুলো কাজ করে না। আপনি যদি চান ছেলেরা মাঠে নিজেদের দায়িত্ব নিক, তাহলে মাঠের বাইরেও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো আচরণ করার এবং ভালো ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’

রুট আরও বলেন, ‘দল হিসেবে বিষয়টি ভালোভাবে সামলানো এবং নিজেদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রাখা আমাদের দায়িত্ব। অনেক দিক থেকেই এটা আমার ও ফ্লেমের (ফ্লেমিং) ভালোভাবে পরিচালনা করতে হবে।’ গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইংল্যান্ডের সাদা বলের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) দলের ওপরও আরোপিত কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই দলের প্রধান কোচ হিসেবে ম্যাককালামই দায়িত্বে আছেন এবং অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।
মজার বিষয় হলো, রুটের প্রথম দফায় অধিনায়কত্বের সময়ও ইংল্যান্ড দলে কারফিউ চালু ছিল। ২০১৭-১৮ অ্যাশেজে মদ্যপান-সংক্রান্ত ঘটনার পর ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় অধিনায়কত্বের শুরুতেই রুট নতুনভাবে বিষয়টি দেখছেন এবং খেলোয়াড়দের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সতীর্থদের উদ্দেশে রুট বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আপনারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে কী লাগে, সেটা আপনারা জানেন। মাঠের বাইরে আপনাদের কী দায়িত্ব, সেটাও জানেন। তাই মাঠের বাইরের এমন কোনো পরিস্থিতি যেন আমাদের সামলাতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কীভাবে ক্রিকেট খেলি এবং মাঠে কী করি, তার জন্যই আমাদের পরিচিত হওয়া উচিত। পত্রিকার শেষ পাতায় আমাদের জায়গা হওয়া উচিত, মানুষ যেন সেই বিষয়গুলো নিয়েই আমাদের সম্পর্কে পড়ে। নিজেদের দেখাশোনা করি এবং এমন একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি তৈরি করি, যেখানে কখন জয় উদযাপন ও উপভোগ করতে হবে, কখন একটি পরিমিত বিয়ার পান করা যেতে পারে– সেটা আমরা বুঝব।’
এএইচএস
