ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের পুরোটা সময় খেলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তার আগেই হয়েছে অলআউট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভ স্মিথ। তবে তার এই ইনিংস ছিল নাটকীয়তায় ভরা। ব্যক্তিগত ২ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছেন, পরে বাংলাদেশের রিভিউয়ের সময় আউট ভেবে ড্রেসিংরুমের পথেও হাঁটা শুরু করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সিদ্ধান্তে বেঁচে গিয়ে সেই স্মিথই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করেছেন। তবে দিন শেষে স্বীকারও করলেন স্মিথ। তার মনে হয়েছিল বল ব্যাটেই লেগেছিল!
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার ও সম্প্রচারক টিম লেন বলেন, ‘সাইড-অন ক্যামেরা থেকে দেখা যাচ্ছে, স্মিথ মিড উইকেটের দিকে প্রায় ২০ মিটার হেঁটে গেছেন। স্মিথ ড্রেসিংরুমের পথে ছিলেন। কিন্তু জীবন পাওয়ার সম্ভাবনা টের পেয়ে এখন আবার ক্রিজে ফিরে এসেছেন...মনে হচ্ছে স্মিথ ব্যাটে বল লেগেছে বুঝেও বেঁচে গেলেন। স্লিপে ক্যাচ মিসের পর এটি তাঁর দ্বিতীয়বার জীবন পাওয়া।’
স্মিথের প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেনও। প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত মতামত হলো, এটি খেলায় প্রচুর বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও ধর্মসেনা, যারা নিজেরাও অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন। প্রশংসা করতেই হবে যে ভুল সিদ্ধান্ত নেননি।’
স্মিথের আচরণ নিয়ে হেইডেন আরও বলেন, ‘স্মিথের প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়কর। (আউটের) ঝুঁকি থাকলেও সবাই তো নিজের (ক্রিজে) জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার কথাই ভাববে।’
অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের কাছেও পুরো ঘটনাটি অদ্ভুত লেগেছে। কায়ো স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার। কারণ সে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করে দিয়েছিল।’
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই বিতর্কিত বলটি নিয়ে স্মিথকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সেটাই (লেগেছিল)।’ এরপরও উইকেটে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন কিনা প্রশ্নে স্মিথ বলেন, ‘হ্যাঁ ভাগ্যবানই বটে। এমনিতে টেকনোলোজি ভালো কাজ করছে, এটাই আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছ হয়তো।’
এসএইচ/এমএমএম
