বিজ্ঞাপন

উইকেট নিয়ে ধাঁধায় ছিল অস্ট্রেলিয়া, ব্যাট ধরতেই ভুলে গিয়েছিলেন স্মিথ!

উইকেট নিয়ে ধাঁধায় ছিল অস্ট্রেলিয়া, ব্যাট ধরতেই ভুলে গিয়েছিলেন স্মিথ!

অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে দিন শেষে চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট তুলে নিয়ে এক উইকেট হারিয়ে অর্ধেক রান শোধ করা—এমন একটা দিনকে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেই অন্যতম সেরা হিসেবে দেখা হচ্ছে!

এ নিয়ে টানা তৃতীয় মৌসুমে নিজেদের মাটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের কোটা পার হতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে ১০৪ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২৫-২৬ অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ১৩২ রানে অলআউট হয়েছিল অজিরা। এবার ডারউইনের মারারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মৌসুমের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষেও সেই একই ঘটনার সাক্ষী হলো প্যাট কামিন্সরা। 

বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কিন্তু বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিক ব্যাটাররা। ১৯৮ রানেই থমকে যায় তাদের ইনিংস। দিনের শেষ ভাগে পিচ কিছুটা ‘ফ্ল্যাট’ হয়ে এলে নিজেদের প্রথম ইনিংসে সুবিধা পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এক উইকেট হারিয়ে অর্ধেক রান শোধ করে ফেলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। 

স্বাগতিকদের টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত দলের টপ অর্ডারকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে মনে করছেন খোদ অস্ট্রেলিয়ার কেউ কেউ। দলের হয়ে কেবল স্টিভ স্মিথই লড়াই করতে পেরেছেন, যদিও ইনিংসজুড়ে বেশ কয়েকটি জীবনও পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ব্যক্তিগত ২ রানে থাকা অবস্থায় স্লিপে ক্যাচ মিস, ৭ রানে এবাদত হোসেনের বলে ব্যাটের কিনারা ঘেঁষে ক্যাচ গেলেও প্রযুক্তিতে তা ধরা না পড়া—সব মিলিয়ে দারুণ এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

সকালের শিশির ভেজা উইকেটে ব্যাটিং বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খানিকটা প্রশ্নও তুলেছেন দলের সহ-অধিনায়ক স্মিথ। তিনি বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত আমাদের মনে হয়েছিল উইকেট বেশ শক্ত। কিন্তু আজ সকালে এসে দেখি শিশিরের কারণে পিচ কিছুটা আঠালো হয়ে আছে। কাল (শুক্রবার) সকালেও একই পরিস্থিতি থাকে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘দিন যত গড়িয়েছে, পিচ তত শক্ত ও ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়েছে। তবে কাল সকালে যদি আবার শিশির পড়ে এবং উইকেট নরম হয়ে যায়, তাহলে ব্যাটিং করা আবারও বেশ কঠিন হবে।’

স্মিথ জানান, বাজে ব্যাটিংয়ের দায় অন্য কারো ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার ছাড়া অস্ট্রেলিয়া দলের আর কেউই ক্রিজে ৭০ মিনিটের বেশি টিকতে পারেননি।

বর্তমান কন্ডিশন নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরেই বলছি, অস্ট্রেলিয়ায় এখন ওপরের সারিতে ব্যাটিং করা আমার দেখা পুরো ক্যারিয়ারের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন—আর তা বেশ বড় ব্যবধানেই। বল ভীষণভাবে সিম করছে। কন্ডিশন এতটাই জটিল যে টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে রান পেতে কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া আবশ্যক। আজকের শুরুটা ছেলেরা ভালোই করেছিল, কিন্তু মাঝপথে আমরা দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলি।’

পরিস্থিতি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা বোঝা যায় স্মিথের এক স্বীকারোক্তিতেই। ফক্স ক্রিকেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইনিংসের প্রথম ৩০ বল খেলার সময় তিনি প্রায় ‘ভুলেই গিয়েছিলেন কীভাবে ব্যাট ধরতে হয়!’

স্মিথ বলেন, ‘কী এক অজানা কারণে আমি দুই হাত একদম কাছাকাছি ধরে রেখেছিলাম। ফলে শট খেলতে গিয়ে বল ব্যাটের কানায় লাগছিল কিংবা শট ঠিকমতো হচ্ছিল না। পরে খেয়াল করলাম, সাধারণত আমি তো দুই হাত কিছুটা ফাঁকা রেখে গ্রিপ করি! যেই গ্রিপ ঠিক করলাম, অমনি ব্যাটের ফেস সোজা হতে শুরু করল আর পজিশন ফিরে পেলাম। মাঝেমধ্যে এমন দিন আসে যখন হুট করে টেকনিকের কথা ভুলেই যাই—মাঝে মাঝেই এমনটা ঘটে।’

প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরে অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ধসের পরও ট্র্যাভিস হেডের অনবদ্য ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। স্মিথের মন্তব্য অনুযায়ী, কাল সকালেও যদি ব্যাটিং কন্ডিশন একইভাবে কঠিন থাকে, তবে বাংলাদেশি ব্যাটারদের দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে করা নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার আশায় স্বাগতিকরা।

এফআই