বিজ্ঞাপন

দলবদলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে সব শিরোপায় চোখ মোহামেডানের

দলবদলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে সব শিরোপায় চোখ মোহামেডানের

ঘরোয়া ফুটবলে দলবদলের রং হারিয়েছে অনেক দিন আগেই। গত মৌসুমে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হওয়ায় অনেক ক্লাব ফুটবল ফেডারেশনেও যায়নি। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব পুরোনো দিনের দলবদলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে। ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ড-পার্টিসহ সমর্থকদের নিয়ে ফুটবল ফেডারেশনে খেলোয়াড়দের তালিকা জমা দিয়েছে।

এই বছরের মার্চে মোহামেডানের নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেয়। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পরই ক্রিকেটে ১৭ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবার ফুটবলেও ভালো মানের দল গড়েছে। জাতীয় দলের নয়জন ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে। ফুটবল লিগে ছয় আসরের মধ্যে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া বসুন্ধরা কিংস থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সাদ উদ্দিন, সোহেল রানাদের মতো তারকা ফুটবলার এনেছে মোহামেডান। গত মৌসুমে ঢাকা আবাহনীতে খেলা মোহামেডানের অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতেকেও দলে ফিরিয়েছে সাদা-কালো জার্সিধারীরা। গতবার খেলা বিদেশি ফুটবলার মোজাফফরভ এবং টনিও আছেন।

এক সময় জাতীয় দলে এক নম্বর গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো দীর্ঘদিন বসুন্ধরা কিংসে ছিলেন। আজ দুপুরে তিনি কিংস ছেড়ে মোহামডোনে চুক্তি করেছেন। মোহামেডান ক্লাব প্রাঙ্গণে সবার আগে জিকোকে পরিচিত করায় ক্লাব কর্মকর্তারা।

জিকো মোহামেডানে এসে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এভাবে, ‘মোহামেডান ক্লাবে আরও আগে খেলার কথা ছিল, যখন অ-১৯ খেলি। বসুন্ধরায় থাকার কারণে আসা হয়নি, এবার আসলাম। এবার শুরু থেকে বাবু ভাইয়ের সাথে কথা হলেও শুরুতে আসতে পারিনি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেললে ভালো কিছু হবে। আমরা মোহামেডানের হয়ে সব জিততে চাই।’

মোহামেডান মাঝে ফুটবলারদের পারিশ্রমিক বকেয়ার জন্য শিরোনাম হয়েছিল একাধিকবার। সেখান থেকে এবার বেশ খরচ করে একাধিক জাতীয় ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে। এজন্য ক্লাবের বর্তমান সভাপতি বরকতউল্লাহ ভুলু ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ফুটবল দল গঠনে কমিটির চেয়ারম্যানের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি আর্থিকভাবে সহায়তা না করলে এত বড় মাপের দল গঠন করা কঠিন হতো।’

মোহামেডান ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মোহামেডান ঐতিহ্যবাহী দল সব সময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলে। আমরা এবার ভালো দল গঠনের চেষ্টা করেছি, আশা করি মাঠে ফুটবলাররা সেরাটা দেবে।’

মোহামেডানের পুনর্জাগরণ ঘটেছে মূলত প্রায় দেড় যুগ পর ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হলেও মোহামেডান মূলত ফুটবল নির্ভর ক্লাব। সমর্থকরা ফুটবলকে ভালোবেসেই ক্লাবের সাথে জড়ান। তাই ক্লাবের অন্যতম পরিচালক ও ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান চান এই বছরটি মোহামেডানের ফুটবলেরও হোক। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার চাই বছরটা ফুটবলেরও হোক।’

ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া মোহামেডানের দলবদলের এমন কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা নতুন উদ্দমে এগিয়ে যাচ্ছি। তাই সাবেক খেলোয়াড়, কর্মকর্তা সবাইকে নিয়ে দলবদলের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি।’

ফুটবলে মাঠে খেলেন ফুটবলাররা, তবে সেই খেলা পরিচালনার নেপথ্যে থাকেন কোচ। মোহামেডান এই মৌসুমে এখন কোচ নির্বাচন করতে পারেনি। তবে ক্লাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজবেকিস্তান কিংবা ডেনমার্ক থেকে কোচ আসবেন। সেটা কয়েকদিনে মধ্যে চূড়ান্ত হবে। দলবদল করলেও আজ অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

মোহামেডানের সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলুর বক্তব্যে ক্রিকেট-ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান এবং হকির কর্মকর্তা সাজেদ আদেলের আর্থিক সম্পৃক্ততার অংশ বেশি ছিল। এত বড় ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এখনও ব্যক্তি অনুদানের নির্ভরতায় চলছে। এ নিয়ে প্রশ্ন হলে সভাপতি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে স্বনির্ভরতা অর্জনের। সাভারে ৭৫ একর জায়গা রয়েছে, এই ক্লাব প্রাঙ্গণেও আমরা আয়ের ব্যবস্থা করব।’

মোহামেডান গত কয়েক মৌসুম কুমিল্লায় হোম ম্যাচ খেলছে। মোহামেডানের অনেক সমর্থক রয়েছে ঢাকায়। বাফুফে জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল আয়োজন করছে না। মোহামেডান ক্লাবের সভাপতি ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলার আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বাফুফেকে বলেছি ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলতে চাই। ঢাকা স্টেডিয়ামে মোহামেডান খেললে অনেক সমর্থক আসবে, ফুটবলের জন্যই ভালো হবে।’

মোহামেডান স্কোয়াড

গোলরক্ষক: আনিসুর রহমান জিকো, সুজন হোসেন, আহসান হাবিব বিপু ও ইসমাইল হোসেন মাহিন।

ডিফেন্ডার: রহমত মিয়া, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, ইসমাইল হোসেন, আজিজুল হক অনন্ত, টনি আগাবাজি, রিমন হোসেন, শাহিন আহমেদ, হাফিজুর রহমান বাবু।

মিডফিল্ডার: সোহেল রানা, মিনহাজ আবেদীন বাল্লু, মেহেদী হাসান রয়েল, রহিম উদ্দিন, জুয়েল মিয়া, রাজু আহমেদ, মুজিবুর রহমান জনি, শফিউল হোসেন, আমির হাকিম বাপ্পি, কামাল মৃধা, মেহেদী হাসান, আরিফ হোসেন, মোজাফফর মোজাফফরভ ও শাহরিয়ার ইমন।

ফরোয়ার্ড: সুলেমান দিয়াবাতে, সৌরভ দেওয়ান, ইমানুয়েল সানডে, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও জয় আহমেদ।

এজেড/এমএমএম