বাংলাদেশের লিজেন্ডের সঙ্গে প্রায় সময় তুলনার মুখোমুখি হওয়া যেন তার নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে তানজিদ হাসান তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি দিয়ে নিজের এক আলাদা পরিচয় গড়ে তুললেন।
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে শতকে পৌঁছে বাংলাদেশকে প্রথম টেস্টে চালকের আসনে বসিয়ে দেন তানজিদ। লং অফে পাঞ্চ করে তিনি সেঞ্চুরি পূরণ করেন। তারপর আনন্দে শূন্যে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ছোড়েন এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জোরে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত মিলিয়ে উদযাপন শেষ করেন।
চা পানের বিরতিতে ফক্স ক্রিকেটকে হাসিমুখে তানজিদ বলেন, ‘এটি আমার জন্য খুবই বিশেষ একটি মুহূর্ত, কারণ এখানে আমি এবারই প্রথম এসেছি।’ নিজের কৌশল নিয়ে তিনি বললেন, ‘তারা আমার বিরুদ্ধে ভিন্ন কৌশলে বল করছিল এবং আমি স্বাভাবিক ক্রিকেট শট খেলার ও নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম। আমি বাড়তি কিছু করার চেষ্টা করিনি, শুধু বল দেখে খেলেছি।’
সেঞ্চুরি উদযাপনের কিছু পরেই শেষ হয় তার ইনিংস। নাথান লায়নের একটি ফুল লেন্থ বলে মনোযোগ হারিয়ে লং অফের দিকে চিপ করেন। লম্বা ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্কের চমৎকার ক্যাচ হয়ে ফিরে যান তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবে পরিচিতি থাকলেও ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দেন। অবশ্য অলরাউন্ডার বেউ ওয়েবস্টারকে সোজা ছক্কা মেরে নিজের আক্রমণাত্মক প্রতিভার ঝলকও তিনি দেখিয়েছেন।
এই ওপেনারের পুরো নাম তানজিদ হাসান তামিম, যেখানে ‘তামিম’ হলো তার ডাকনাম। বাঙালি পরিবারে যেভাবে অনানুষ্ঠানিক ডাকনাম ব্যবহার করা হয়। স্বভাবতই তানজিদ প্রথম ক্রিকেট ব্যাট হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক পাওয়ার হিটার তামিম ইকবালকে জড়িয়ে তুলনা শুরু হয়। কারণ তানজিদের শৈশবে তামিমই ছিলেন দেশের সেরা ক্রিকেট তারকা।
আর বগুড়ার এই মেধাবী তরুণ যখন দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা দেখিয়ে একজন বাঁহাতি ওপেনার হিসেবে নিজেকে বিকশিত করতে শুরু করেন, তখন তিনি পছন্দ করুন বা না করুন, তুলনা শুনতেই হচ্ছিল। অবশ্য তার কাছে এটি বেশ পছন্দনীয় ছিল। ২০২৩ সালে ক্রিকইনফো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তানজিদ বলেছিলেন, ‘আমার নাম তামিম ভাইয়ের মতো এবং আমিও ওনার মতো বাঁহাতি ব্যাটিং করি, বিষয়টা আমার খুব ভালো লাগত। আমিও ওনার মতো একজন ওপেনার। তবে আমার বাবা-মা তামিম ভাইয়ের নাম অনুসারে আমার নাম রাখেননি।’
গত মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলার পর এটি ছিল তার মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে থাকা অবস্থায় লায়ন ক্যাচ মিস করায় তিনি একটি নতুন জীবন পান।
৪০টি ওয়ানডেতে ১০১.৩৫ স্ট্রাইক রেট থাকা সত্ত্বেও তানজিদ বেশ দায়িত্বশীল পথ অবলম্বন করেন এবং প্রথম দিন শেষে ৬৭ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় দিনের সকালে ওয়েবস্টারকে ওভারস্টেপ করে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর আগ পর্যন্ত তিনি একই রকম দেখেশুনে খেলছিলেন। ৬২ রানে থাকার সময় লায়নের স্পিনে স্ল্যাশ কাট করতে গিয়ে প্রথম স্লিপে থাকা স্টিভ স্মিথের কবজিতে লেগে ক্যাচ মিস হলে তিনি আরও একবার ভাগ্যের সহায়তা পান।
প্যাট কামিন্সকে স্ল্যাশ কাটে চার মেরে তিনি নিজের নামের সার্থকতা প্রমাণ করেন, যে নামটি তার জার্সির পেছনে সগৌরবে লেখা রয়েছে। ২৫ বছর ২৫৬ দিন বয়সে ১৮৮ বলে তার করা এই সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশকে কেবল এই ঐতিহাসিক টেস্টেই ভালো অবস্থানে রাখেনি, বরং আগামী অনেক বছরের জন্য নতুন এক আশা জাগিয়েছে।
এফএইচএম
