ফিফা সভাপতির পদ কোনোমতে টিকিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে তার নজর আগামী বছর হতে যাওয়া নির্বাচনের দিকে। পুনরায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার আসনে বসতে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন প্রয়োজন তার। তবে ফিফা বিশ্বকাপের বেসরকারিকরণ প্রকল্প হাতে নিয়ে তার কপাল পুড়তে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা তো ভেস্তে গেছেই, একে একে বিভিন্ন দেশের সমর্থনও হারাচ্ছেন ইনফান্তিনো।
অবশ্য অনেক দেশ এখনও ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসছে। তার প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ ও ‘আত্মবিশ্বাস’ অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ছয়টি আরব দেশের ফুটবল ফেডারেশন। ২০২৩ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মরক্কোর পাশাপাশি, কাতার, মিসর, মৌরিতানিয়া, লেবানন ও সুদান এই অবস্থান জানাল।
এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘আমরা নিজ নিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের স্বাক্ষরকারী নেতৃবৃন্দ, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি এবং তার নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে তার অব্যাহত অঙ্গীকারের ওপর আমাদের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্বব্যাপী ফুটবলের অগ্রগতি সাধন, সব অঞ্চলে সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ এবং মানুষ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে এই খেলার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে ইনফান্তিনোর নিরলস প্রচেষ্টাকে আমরা গভীরভাবে সাধুবাদ জানাই।’
এদিকে, আজ (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতির অনাস্থা এবং তদন্তের আহবান জানিয়ে নিউজিল্যান্ড ফুটবল জানিয়েছে, ‘ফিফার কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আস্থার সংকট ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আস্থা ও বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসনের ওপর আস্থা বজায় রাখতে সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুহূর্তটি ফিফার সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের জন্য আরও শক্তিশালী সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ।’
— New Zealand Football (@NZ_Football) August 14, 2026
এর আগে বিশ্বকাপের মালিকানার একাংশ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনার জেরে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক উয়েফা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল শুরু থেকেই। এ ছাড়া বিভিন্ন সদস্য দেশের আপত্তির মুখে ইনফান্তিনো ২০ বিলিয়ন ডলারের সেই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন। উল্লেখ্য, উয়েফা ফিফার সব ধরনের ম্যাচ ও ইভেন্ট বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল।
উয়েফা, কনকাকাফ (উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন যৌথভাবে সোমবার একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে। এতে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনাকে ‘বিশ্বাসের চরম লঙ্ঘ ‘ এবং ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। পরে অবশ্য মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে নিজের ভুল স্বীকার করলে ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা পুনর্বহালের কথা জানায় কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য।
এএইচএস
