২০২৬-২৭ মৌসুমে লাল লিগার ২০টি ক্লাবই একটি সফল মৌসুমের আশায় মাঠে নামবে। তবে স্প্যানিশ শীর্ষ লিগের বেশিরভাগ ক্লাবের জন্যই ‘সফলতা’ মানে শিরোপা জেতা নয়।
গত ৯৫টি লা লিগা মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ (৩৬টি), বার্সেলোনা (২৯টি) ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদই (১১টি) বেশিরভাগ শিরোপা জয় করেছে। একাবিংশ শতাব্দিতে এই প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যহীনতা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে, যেখানে একমাত্র ভ্যালেন্সিয়া (২০০১-০২ এবং ২০০৩-০৪) এই তিন দলের আধিপত্য ভাঙতে পেরেছিল।
গত দুই মৌসুমে বার্সেলোনার পেছনে থেকে রানার্স-আপ হিসেবে শেষ করার পর রিয়াল মাদ্রিদ সাফল্যের খোঁজে আবার ঐতিহ্যের দিকে ফিরে গেছে। কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদ কেবল খবরে শিরোনাম তৈরি করার জন্যই নয়, বরং ক্লাবটির জন্য এটি একটি দারুণ পদক্ষেপও হতে পারে।
মরিনহো কিছু প্রমাণ করার তাড়না নিয়ে লা লিগায় ফিরছেন। অনেকেরই ধারণা যে তিনি অতীতের মানুষ— যার ফুটবল কৌশল পুরনো আমলেই আটকে আছে। যাই হোক, ৬৩ বছর বয়সী এই ট্যাকটিশিয়ান নিঃসন্দেহে বাস্তববাদী হলেও তারকাখচিত শক্তিশালী দল গঠনেও অত্যন্ত পারদর্শী।
রিয়ালে নিজের প্রথম দফায় মরিনহো তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ জয়ের হার (৭৬.৩ শতাংশ) অর্জন করেছিলেন। ২০১১-১২ মৌসুমে তার দল লা লিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড গড়েছিল।
তারপর ফুটবল অনেক দূর এগিয়েছে, তবে মরিনহোর দর্শন এমন একটি দলের জন্য দারুণ কাজ করতে পারে যা গত দুই মৌসুম ধরে প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ পারফর্ম করেছে। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, জুড বেলিংহাম, ইয়ান দিওমান্দে এবং কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে গড়া মাদ্রিদের আক্রমণভাগ লা লিগার বাকি দলগুলোর জন্য অত্যন্ত ভীতিকর।
এর সাথে মরিনহোর রক্ষণাত্মক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রবণতা যোগ হলে লস ব্লাঙ্কোসরা এই মৌসুমে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। মার্ক কুকুরেয়ার আগমন লেফট ফ্ল্যাঙ্কে ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা বাড়াবে, আর ডেনজেল ডামফ্রিস বিপরীত ফ্ল্যাঙ্কে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের সাথে লড়াই গড়ে তুলবেন।
ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক তারকা বার্নার্ডো সিলভা দলটির জন্য আরেকটি আকর্ষণীয় অন্তর্ভুক্তি। তিনি যেন আরও আক্রমণাত্মক মানসিকতার এক লুকা মদ্রিচ। সিলভার বল নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা তার সতীর্থদের সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করবে। আর তার আগ্রাসী মনোভাব মরিনহোর দলের জন্য একদম উপযুক্ত।
মাদ্রিদের তারকায় ঠাসা দলটি যদি মরিনহোর পরিকল্পনার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তবে তারা আরও একটি সফল যুগের সূচনা করতে পারে। মাদ্রিদের এই চ্যালেঞ্জ রুখে দিতে বার্সেলোনাও থাকবে ব্যাকুল। তবে তারকা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোভস্কির চলে যাওয়া তাদের সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা এই গ্রীষ্মে ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন এবং করিম আদেইমিকে সই করিয়ে তাদের দলে মান বৃদ্ধি করেছে। লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা এবং ফেরান তোরেস তাদের আক্রমণভাগে গভীরতা বাড়িয়েছেন। তবে এমবাপের সমান প্রভাব ফেলতে সক্ষম এমন একজন স্ট্রাইকারের অভাব তাদের রয়ে গেছে।
ম্যানেজার হ্যান্সি ফ্লিক আশা করবেন যে তার হাই-প্রেসিং কৌশল এবং পেনাল্টি বক্সের চারপাশে দ্রুত পাসিং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দেবে। বার্সেলোনার গতি, আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য এবং চোখের পলকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়দের অভাব নেই।
যদি তাদের একজন নিয়মিত গোলদাতা স্ট্রাইকার থাকত, তবে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পষ্ট ফেভারিট হতো। সেটি ছাড়া তারা খানিকটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তারা লেভানডোভস্কির উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে অ্যাটলেটিকো স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজকে চিহ্নিত করেছিল, কিন্তু তার দলবদলের বিষয়ে করা প্রস্তাবগুলো তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
দলে আলভারেজের উপস্থিতির কারণে অ্যাতলেটিকোর শিরোপার লড়াইয়ে শক্তভাবে ফেরার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে শক্তিশালী করার কোনো মানেই হয় না। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে অ্যাতলেটিকো বেশ সক্রিয় থেকে মরটেন হিউলমান্দ, লি কাং-ইন এবং আলেজান্দ্রো গ্রিমালদোকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তারা টটেনহ্যাম হটস্পারের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে চুক্তিভুক্ত করার কাছাকাছি রয়েছে, যিনি ম্যানেজার ডিয়েগো সিমিওনের জন্য একদম উপযুক্ত হবেন। যদি অ্যাতলেটিকো আলভারেজকে ধরে রাখতে পারে এবং দলে আরও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় যোগ করতে পারে, তবে এই মৌসুমে সেরা দুই দলের জন্য তারাই সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
শিরোপার লড়াইয়ে শীর্ষ দুই স্থান মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা দখল করবে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে, আর বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে মরিনহোর প্রত্যাবর্তনই এই শিরোপা নির্ধারণে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
এফএইচএম
