বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়াকে কেন ‘আন-অস্ট্রেলিয়ান’ মনে হচ্ছে সাবেক অধিনায়কের

অস্ট্রেলিয়াকে কেন ‘আন-অস্ট্রেলিয়ান’ মনে হচ্ছে সাবেক অধিনায়কের

মূল কৃতিত্বটা নিশ্চিভাবে বাংলাদেশের, ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে নেমে স্বাগতিকদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল। বল-ব্যাট দুই বিভাগেই সফরকারীরা আধিপত্য দেখাচ্ছে। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রানে থেমেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ২২৮ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পাঁচটি ক্যাচ মিস। যা দেখে তাদের ‘আন-অস্ট্রেলিয়ান’ মনে হচ্ছে নারী দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিসা হিলির।

আজ (শনিবার) তৃতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজের আগে বাংলাদেশের শেষ দুটি উইকেট তুলে নিতে চরম বেগ পেতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। এর মধ্যেই স্রেফ সহজতম একটি ক্যাচ মিস করে বসলেন যৌথভাবে ‘আউট ফিল্ডার’ হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড গড়া স্টিভ স্মিথ। এরপর ট্রাভিস হেডও একটি ক্যাচ ফেলেছেন, যদিও সেটি ছিল তুলনামূলক কঠিন। তার মিস করা ক্যাচের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস আরও কিছুটা বড় করেছেন হাফসেঞ্চুরি হাঁকানো মেহেদি হাসান মিরাজ।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে মোট পাঁচটি ক্যাচ ছেড়েছে অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু সুযোগও তৈরি হয়েছিল। প্রথম সেশনের শেষদিকে ক্যামেরন গ্রিনকে হুক করে বিশাল ছক্কা হাঁকান মেহেদী। তাতে সকালের সেশনে কোন দল আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহই থাকল না। এ সময় মিস ফিল্ডিং ও বাংলাদেশের এত লম্বা সময় ব্যাটিং করে যাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন মিচেল স্টার্কের স্ত্রী ও সাবেক অধিনায়ক হিলি।

ফক্স ক্রিকেটের ধারাভাষ্য বক্সে অ্যালিসা হিলি বলেন, ‘এটা খুব, খুবই আন-অস্ট্রেলিয়ান, তাই নয় কি? আমরা দেখেছি ক্যাচ হাতছাড়া হতে। আমরা দেখেছি ১২৮ ওভার ধরে মাঠে ফিল্ডিং করতে হয়েছে। আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়া নিজেরাই এমন অনেক আলোচনার বিষয় তৈরি করেছে।’

dhakapost
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন স্বাগতিক নারী দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি 

এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে কোনোভাবে জিততে হলে প্রথম ইনিংসে তাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি (লিড) পেরিয়ে জিততে হবে। এর আগে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের ঘাটতি কাটিয়ে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া ২০১০ সালে, সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। তবে সব টেস্ট মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৯১ রানে পিছিয়ে থেকেও জয়ের রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৯২ সালে তারা কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিল।

এদিনও অবশ্য দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যথেষ্ট আগ্রাসী মনোভাবেই দিন শুরু করেছিল প্যাট কামিন্সের দল। জশ হ্যাজলউডও তিনটি (সবমিলিয়ে ৬টি) উইকেট নিয়ে তার টেস্ট উইকেটসংখ্যা ৩০১-এ উন্নীত করেন। কামিন্স পেস ও স্পিন দুই ধরনের বোলিংই ব্যবহার করেছেন। শর্ট বল থেকে ফুল লেংথ সবকিছুই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ দুটি উইকেট তুলে নিতে তাকে লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। 

তাসকিন যখন হুক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচের সুযোগ তৈরি করেন, তখন মনে হচ্ছিল কামিন্স অন্তত একটি উইকেট পেয়ে যাবেন। কিন্তু বলটি বাতাসে কিছুটা ঘুরে যাওয়ায় স্মিথ ক্যাচটি ফেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গেই নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, নাথান লায়নও বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারকে ভুল করায় বাধ্য করার কোনো উপায় খুঁজে পাননি। মিরাজ-তাসকিনরা সংযত থেকেই তাকে সামলেছেন। অস্ট্রেলিয়াকে সহজে কোনো সুযোগ না দেননি সফরকারীরা।

এএইচএস