নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘোরাচ্ছে বাংলাদেশ। ক্যাঙ্গারুদের ১৯৮ রানের জবাবে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ পেয়েছে সফরকারী টাইগাররা। লিড ২২৮ রানের।
প্রথম ইনিংস শেষে এই বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য একেবারে অচেনা এক অভিজ্ঞতা। এরই মধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৭ রানেই দুই ব্যাটারকে হারিয়ে ফেলেছে তারা। ম্যাচে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কাও চোখ রাঙানি দিচ্ছে অজিদের সামনে।
ইতিহাস বলছে, নিজেদের মাটিতে এত বেশি রানে পিছিয়ে থেকে কখনো জিততে পারেনি স্বাগতিক দলটি। দেশটির টেস্ট ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি ম্যাচেই ২০০-র বেশি রানে পিছিয়ে পড়ার পর জয়ের রেকর্ড রয়েছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের চেয়ে ২০৬ রানে পিছিয়ে থেকে জিতেছিল তারা।
ইতিহাস বলছে, নিজেদের মাটিতে এত বেশি রানে পিছিয়ে থেকে কখনো জিততে পারেনি স্বাগতিক দলটি। দেশটির টেস্ট ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি ম্যাচেই ২০০-র বেশি রানে পিছিয়ে পড়ার পর জয়ের রেকর্ড রয়েছে।
তানজিদ তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংসের দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রাপ্তি বলতে জশ হ্যাজলউডের ৮৯ রানে ৬ উইকেট শিকার, টেস্ট ক্রিকেটে তিনশো উইকেটের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন তারকা এই পেসার।

তবে হ্যাজলউডের এই সাফল্য বাদ দিলে, স্বাগতিকদের উল্লাস করার মতো তেমন কিছুই ছিল না। মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে শেষ বলটিতে যখন মেহেদী মিরাজ ক্যামেরন গ্রিনকে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকান, এটি যেন স্বাগতিকদের কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো লেগেছিল।
দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার ট্রেন্ট কোপল্যান্ড স্বীকার করেছেন যে পরিস্থিতিটা ছিল "ভয়াবহ"। কোপল্যান্ডকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য এটি ঠিক কতটা খারাপ?’ “হ্যাঁ, আমরা একটু আগেই (পরিসংখ্যানবিদ) সোয়াম্পের সঙ্গে কথা বলছিলাম যে এই পিছিয়ে পড়াটা কতটা বড়... এটা একেবারে ব্যতিক্রমী এক পরিস্থিতি। অবস্থা সত্যিই বেশ ভয়াবহ,” বলছিলেন কোপল্যান্ড।
ম্যাচজুড়েই অস্ট্রেলিয়া দলের কঠিন সংগ্রাম স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে; মৌসুমের শুরুতেই ক্রিকেটারদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির ছাপ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ দলের শেষ দিকের ব্যাটাররা যখন বাধাহীন ভাবে ব্যাট চালিয়েছেন, অন্যপ্রান্তে অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ এবং ট্র্যাভিস হেড—উভয়েই ক্যাচ মিস করেছেন।
“ঐতিহাসিকভাবে, বিগত কয়েক বছরে (অস্ট্রেলিয়া) প্রতিপক্ষকে মাত্র দু-এক সেশনের মধ্যেই অলআউট করে দিয়েছে,” সেভেনে বলেন সাইমন কাটিচ। “তাই খেলোয়াড়দের শরীরে ক্লান্তি জমাই স্বাভাবিক। এটা মৌসুমের শুরু। ফলে এই টেস্টে এখন পর্যন্ত তাদের পারফরম্যান্সে বেশ কিছুটা জং ধরা ভাব স্পষ্ট। স্টিভ স্মিথ যেভাবে ক্যাচ ফেলে দিলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে তিনি এমন ক্যাচ কখনো ফেলেন না। তাই মনে প্রশ্ন জাগে, এই ব্যাটিং গ্রুপের মধ্যে কি কিছুটা শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাসা বাঁধছে?”

ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ানদের নিজেদের ছায়া মাত্র মনে হয়েছে। ইনজুরি থেকে ফেরার পর বোলার প্যাট কামিন্স, হ্যাজলউড এবং নাথান লায়ন প্রচুর ওভার বোলিং করতে পেরেছেন—এটিকে কিছুটা ইতিবাচক দিক বলা গেলেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন দেশটির ক্রীড়াবোদ্ধরা।
“ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স স্টাফদের আলাদা কিছু দল হয়তো সন্তুষ্ট হবে যে বোলাররা এই পরিমাণ ওভার বোলিংয়ের চাপ নিতে পেরেছে। তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে সেটার কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ তারা ম্যাচে অনেক পেছনে পড়ে আছে,” বলেন কোপল্যান্ড।
এফআই
