অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই খেলেছেন। পেয়েছেন ক্রিকেটের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিচয়গুলোর একটি, ‘ব্যাগি গ্রিন’। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে সেই মোইসেস হেনরিকসই এখন ছুটছেন অন্য এক স্বপ্নের পেছনে—পর্তুগালকে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া।
৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার জন্মেছেন পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপের ফুনশালে। মাত্র দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। এরপর সেখানেই বেড়ে ওঠা। ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন চারটি টেস্ট, ১৬টি ওয়ানডে ও ২৪টি টি-টোয়েন্টি।
এবার জন্মভূমি পর্তুগালের হয়ে খেলছেন হেনরিকস, আর সামনে থেকে দলটির নেতৃত্বও দেবেন তিনি। ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউরোপ সাব-রিজিওনাল বাছাইপর্বে পর্তুগালের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
পর্তুগালের লক্ষ্যটা বড়। এ বছর ইতালি যে পথ পেরিয়ে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে, একই স্তর থেকে শুরু করছে পর্তুগালও। তাই হেনরিকসের চোখেও ইতালির সাফল্যই এখন স্বপ্নের মাপকাঠি, 'এই পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ হবে ইতালি যা করেছে, সেটার পুনরাবৃত্তি করা।'
বাস্তবতা সম্পর্কে অবশ্য যথেষ্ট সচেতন হেনরিকস। পর্তুগালের র্যাঙ্কিং এখন ৩৭। ফিনল্যান্ডের ১০ দলের এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ ‘বি’-তে তাদের সঙ্গে আছে চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, গ্রিস ও ইসরায়েল। এই পর্ব পেরোতে পারলে আগামী বছর ইউরোপের চূড়ান্ত আঞ্চলিক বাছাইয়ে স্কটল্যান্ড, জার্সি ও ডেনমার্কের মুখোমুখি হতে হবে। তবে সংখ্যার হিসাবের চেয়েও হেনরিকসের কাছে এই যাত্রার আবেগটাই বড়।
এ দিকে ক্রীড়াঙ্গনে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই তারকার সম্মানে দেশটিতে একটি বিমানবন্দরের নাম রাখা হয়েছে। হেনরিকস তাই মজা করে বলেছেন, 'আমি নিশ্চিত নই, একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপের সমান কি-না। আমি এ ব্যাপারেও নিশ্চিত নই যে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো মাদেইরায় আমার নামে কোনো বিমানবন্দর হবে কি-না। তবে আমার নামে যদি একটা বাস স্টপও হয়, তাতেই আমি খুশি।'
এইচজেএস
