বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ে ‘দলগত শক্তি’কে কৃতিত্ব দিলেন কোচরা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ে ‘দলগত শক্তি’কে কৃতিত্ব দিলেন কোচরা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় পেল বাংলাদেশ। ম্যাচজুড়েই লাগাম ছিল সফরকারীদের হাতে। বল-ব্যাট দুই বিভাগেই তারা অজিদের চাপের মুখে রেখেছিল। শান্ত-হাসানদের এমন সাফল্যকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখছেন বিসিবির দুই কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও সোহেল ইসলাম। 

তাদের মতে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ ও দলগত মানসিকতাই এই জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বাবুল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় দেখে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটাররা যে পরিশ্রম করে আসছেন, এই জয় তারই প্রতিফলন।’ 

নাহিদ রানা ও লিটন দাসের চোট নিয়ে সিরিজের আগে থেকেই বেশ আলোচনা ছিল। রানা খেলতে না পারলেও ডারউইন টেস্টে উইকেটকিপিং সামলেছেন লিটন। তাদের নিয়ে ম্যাচের আগে তৈরি হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার না থাকলেও বিকল্প খেলোয়াড়রা নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন। নাহিদ রানা বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত সদস্য হলেও তার অনুপস্থিতিতে যে ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন, তিনিও নিজের জায়গা পাকা করতে ভালো পারফরম্যান্স করার তাগিদ অনুভব করছেন।’ 

শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চের গুরুত্ব বোঝাতে ভারতের উদাহরণও টানলেন এই কোচ, ‘দলে একাধিক মানসম্পন্ন বিকল্প থাকলে মূল একাদশের ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভরতা কমে এবং দলের ভেতরে পারফর্ম করার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। ভারত এভাবেই সাফল্য পায়। বাংলাদেশও এখন ধীরে ধীরে সেই অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন বিসিবির আরেক কোচ সোহেল ইসলাম, ‘আগে বাংলাদেশকে মূলত নিজেদের কন্ডিশনে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বিদেশের মাটিতে বড় দলগুলোর বিপক্ষে এমন জয় পাওয়ার পর প্রতিপক্ষরা এখন বাংলাদেশকে আরও বেশি গুরুত্ব দেবে। শুধু ঘরের মাঠে নয়, অ্যাওয়ে কন্ডিশনেও বাংলাদেশকে সমীহ করতে হবে—এমন বার্তাই এই জয় দিয়েছে।’

ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে বাংলাদেশের উন্নতি

পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন সেই পুরোনো ধারণা থেকে বের হয়ে আসছে যে তারা শুধু নিজেদের মাঠেই বিপজ্জনক। বিদেশের মাটিতেও বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য বাংলাদেশ দেখাতে পারছে।’

এই জয়ের ফলে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করেন সোহেল, ‘ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার পর ব্যাটার ও বোলাররা ভবিষ্যতে বিদেশের সিরিজগুলোতে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারবেন। বাংলাদেশ এখন কোনো একজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং পুরো দল একসঙ্গে পারফর্ম করছে। একজন ক্রিকেটার ব্যর্থ হলেও অন্যরা দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক পরিবেশ এবং একে অপরের প্রতি সমর্থনই এই দলগত সাফল্যের অন্যতম কারণ।’

এসএইচ/এএইচএস