নিজেদের দ্বিতীয় সফরেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। যে সফরের জন্য টাইগারদের অপেক্ষাটা ছিল ২৩ বছরের। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দেশের কাছ থেকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপটা বহু পুরোনো। সম্ভাবনাময় ক্রিকেট দল সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রাপ্য সম্মান পায়নি বলে মনে করেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ইয়ান রাফায়েল বিশপ।
ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংসেই পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে সব বিভাগেই পেছনে ফেলেছিল বাংলাদেশ। বল-ব্যাট হাতে শান্ত-হাসানদের দাপটের সামনে স্বাগতিকরা দাঁড়াতেই পারেনি। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্যটা ছিল স্রেফ ৫৭ রানের। ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ নিজেদের চূড়ান্ত দাপটটা দেখাল।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই জয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ইয়ান বিশপও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান এই ধারাভাষ্যকার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন। যারা আগে তাদের প্রাপ্য প্রশংসা বা স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করেছে, তাদের কাছ থেকে এখন যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি পাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পারফর্মার মিরাজ-তানজিদ-হাসানের পাশাপাশি স্বদেশি ফিল সিমন্সেরও প্রশংসা করেছেন বিশপ, ‘মেহেদী (মিরাজ) ও তানজিদ (তামিম)-সহ অনেকেই এই সাফল্যে অবদান রেখেছেন। তবে বিশেষ করে হাসান মাহমুদের কথা বলতেই হয়– পুরোপুরি সুস্থ থাকা সাপেক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিখুঁত লাইন ও লেংথে বল করে আসছেন এবং তার বোলিং অ্যাকশনটিও চমৎকার, পরিপাটি ও সোজা। কোচ ফিল সিমন্স এবং তার দলের জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চমৎকার বাংলাদেশ।’
— Ian Raphael Bishop (@irbishi) August 16, 2026
প্রসঙ্গত, প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ করেছিল ৪২৬ রান। ফলে তাদের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া কামব্যাকের ইঙ্গিত দিলেও, তাদের দলীয় সংগ্রহ ছিল ২৮৪ রান। অর্থাৎ, বাংলাদেশের রান পেরিয়ে আর ৫৬ রান করেছে প্যাট কামিন্সের দল। যা সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে ৯ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়েছে ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া বাংলাদেশ।
এএইচএস
