২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। তাদের মাটিতে নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল নিজেদের প্রথম জয়ের পথে কোনো ত্রুটি রাখেনি। একেবারে নিখুঁত দলগত পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব দিচ্ছেন দেশের ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট সবাই। এ নিয়ে ছয়টি দেশের মাটিতে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ, সবমিলিয়ে বিদেশে এটি তাদের দশম জয়।
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ করেছিল ৪২৬ রান। ফলে সফরকারীদের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া কামব্যাকের ইঙ্গিত দিলেও, তাদের দলীয় সংগ্রহ ছিল ২৮৪ রান। অর্থাৎ, বাংলাদেশের রান পেরিয়ে আর ৫৬ রান করেছে প্যাট কামিন্সরা। যা সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে ৯ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়েছে ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হাসান মাহমুদ।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাসগড়া জয়ের শুরুটা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়ে। ২০০৯ সালে তারা প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে টেস্ট জেতে। সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডায় ক্যারিবীয়দের যথাক্রমে ৯৫ রান ও ৪ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। যদিও ওই সিরিজে স্বাগতিকরা নেমেছিল দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে। ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের চুক্তিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে ক্রিস গেইল, শিবনারায়ণ চন্দরপল ও রামনরেশ সারওয়ানের মতো মূল দলের প্রায় সব নিয়মিত সিনিয়র ক্রিকেটাররা বয়কট ও ধর্মঘট করেন।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয় পায় জিম্বাবুয়েতে। হারারেতে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন সফরকারীদের জয়টা ছিল ১৪৩ রানের বড় ব্যবধানে। ২০২১ সালে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত টেস্টে জিম্বাবুয়েকে আরও বড় ব্যবধানে (২২০ রান) হারায় বাংলাদেশ। রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে অবশ্য টাইগারদের ঘরের মাঠে ২০০৫ সালে প্রথম জয়ের নজির ছিল।

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাদের বিপক্ষে পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম টেস্টটি ছিল অন্যতম ঐতিহাসিক। কারণ প্রতিপক্ষ দলটি ছিল পূর্ণ শক্তির। সেখানেও অধিনায়ক ছিলেন মুশফিক। সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরি এবং তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিক ও মোসাদ্দেক সৈকতদের হাফসেঞ্চুরির সুবাদে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সেই টেস্টে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জেতে।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় প্রথম টেস্ট জয় আসে ২০২২ সালে। মাউন্ড মঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে টম ল্যাথামের দলকে মুমিনুল হকের দল ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায়। চার ব্যাটারের ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানের লিড নেয় সফরকারীরা। এরপর এবাদত হোসেন ৬ উইকেট শিকার করলে ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। ফলে ৫০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় কোনো বেগ পেতে হয়নি টাইগারদের।

২০২৪ সালের আগে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট জয়ের কোনো রেকর্ড ছিল না বাংলাদেশের। ওই বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত দুটি রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ১০ এবং ৬ উইকেটে দুর্দান্ত জয়ে ইতিহাস গড়ে। ১৫৫ রান ও ১০ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হন মেহেদি হাসান মিরাজ। এ ছাড়া হাসান মাহমুদ দু’বার ফাইফার এবং দ্বিতীয় টেস্টে নেমে নাহিদ রানাও পেয়েছিলেন ৫ উইকেট।
এএইচএস
