অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিক দেশটির বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়কে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সব সংস্করণ মিলিয়েই ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনেই র্যাংঙ্কিংয়ে টেবিল টপারদের ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারানো টাইগার ক্রিকেটারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কিংবদন্তি থেকে শুরু করে বিশ্ব ক্রিকেটের ক্রীড়াবোদ্ধারা।
অথচ দীর্ঘ বিরতির পর এই সিরিজটি মাঠে গড়ানো নিয়েও কম শঙ্কা ছিল না। বিশ্ব ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড কখনোই বাংলাদেশকে আতিথ্য দিতে চায় না। এবারের অস্ট্রেলিয়া সফর এলো দীর্ঘ ২৩ বছর পর। অন্যদিকে, দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ডেও খেলার সুযোগ পায়নি টাইগাররা।
আইসিসির পূর্ব নির্ধারিত হওয়ায় এবার অনেকটা বাধ্য হয়ে নীরবে নিভৃতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয় এমন মাঠকে, যেখানে ২২ বছর পর টেস্ট ক্রিকেট মাঠে গড়ালো। এমন সময়ে খেলা দেওয়া হলো যে সময়টাতে অস্ট্রেলিয়া সাধারণত টেস্ট খেলে না।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সামার মূলত অক্টোবরের পর থেকে শুরু হয়। মূল সিজন নভেম্বর থেকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি। অথচ বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্টের সময়টা দেখুন, আগস্ট মাসে।

কে জানতো, স্বাগতিক দেশ, ক্রিকেট বোর্ড, সম্প্রচার চ্যানেল, স্পন্সর-কারও আগ্রহের তালিকায় না থাকা টেস্টটাই দিনশেষে মর্যাদার এই সংস্করণটির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে রইলো।
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে এর আগে একবারই। ২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে দুই টেস্টের সফরটি হয়েছিল জুলাই মাসে, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট গ্রীষ্মের বাইরে।
আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্ল্যান (এফটিপি) অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দলের দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা ছিল। সেটি হলে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট গ্রীষ্মে অন্তত প্রথমবার টেস্ট খেলার সুযোগ পেত বাংলাদেশ দল। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি ২০২৭ সালের মার্চে না খেলে ২০২৬ সালের আগস্টে এগিয়ে আনে অস্ট্রেলিয়া।
এর নেপথ্য কারণ, বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বেশি ম্যাচ খেলা। যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মের ক্রিকেট সূচিতে আর টেস্ট খেলা হয়নি বাংলাদেশের।
এর আগে ২০১৮ সালে ২টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। সম্প্রচারকদের অনাগ্রহের কথা বলে সেবারও বাংলাদেশ দলকে আতিথেয়তা দেয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

শুধু বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের ক্ষেত্রেই নয়, টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া দলও বাংলাদেশে আসতে বরাবরই অনীহা প্রকাশ করে আসছে। ২০১৫ সালে নিরাপত্তা শঙ্কার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে আসেনি অস্ট্রেলিয়া দল। সিরিজটি পরে হয় ২০১৭ সালে। শেষ ২০২০ সালেও করোনার কারণে বাংলাদেশে টেস্ট খেলতে আসেনি অজিরা। চলমান সিরিজের আগে টেস্টে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছে ছয়বার, এর মধ্যে চারটিই হয়েছে বাংলাদেশে।
এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ভালো খেলার মাধ্যমে সম্মান আদায় করে নিতে চেয়েছিলেন। ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর সেই চেকলিস্টে টিক পড়ে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। শান্তর মতে আজকের এই জয়ের মাধ্যমে তার দল ক্রিকেট বিশ্বের সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে।
অজিদের উড়িয়ে দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই, আমার মনে হয় আমরা ক্রিকেট বিশ্বকে একটা ভালো বার্তা দিতে পেরেছি। যেকোনো কন্ডিশনে ভালো খেলার সামর্থ্য রাখি আমরা। আমার মতে, ভবিষ্যতে এরকম কন্ডিশনে আরও বেশি বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাব। আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’
এফআই/এমএমএম
