বিজ্ঞাপন

মারেস্কার ম্যানসিটির দুঃস্বপ্নের মতো শুরু, আর্সেনাল কি সত্যিই এগিয়ে আছে?

মারেস্কার ম্যানসিটির দুঃস্বপ্নের মতো শুরু, আর্সেনাল কি সত্যিই এগিয়ে আছে?

চলতি মৌসুমে বড় ট্রফির চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আগে নিজেদের প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছিল প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপের চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হলো ম্যানচেস্টার সিটির। এফএ কাপের ট্রফি জয়ীদের জালে ২৩ সেকেন্ডে বল পাঠানোর পর গোল উৎসব করল আর্সেনাল।

ইংলিশ ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর আগে আায়োজিত বাৎসরিক প্রতিযোগিতা কমিউনিটি শিল্ডে ম্যানসিটিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল। তিন গোলকে গোল উৎসব বলার কারণ, ২০১৪ সালের পর প্রথমবার এত বড় ব্যবধানে ম্যানচেস্টার ক্লাবকে হারাল গানাররা। ওইবারও কমিউনিটি শিল্ডে একই ব্যবধানে জিতেছিল তারা। আর ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর কোনো ইংলিশ দলের কাছে এটি ছিল সিটির বড় ব্যবধানে পরাজয়।

কার্ডিফে রিকার্ডো কালাফিওরি, কাই হ্যাভার্জ ও মার্টিন ওডেগার্ড গোল করে চার মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ট্রফি জিতল আর্সেনাল। দাপট দেখিয়ে এই শিল্ড জিতে কি প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা বোঝাতে চাইল, তারা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে কতটা এগিয়ে?

আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বললেন, তার দলের এমন দাপুটে জয়ে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন তিনি। টিএনটি স্পোর্টসকে জানান, তার দলের খেলার ধরণ ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গ্রীষ্মে পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হওয়া নতুন সিটি কোচ এনজো মারেস্কা এমন কোনো কথা বলতে পারেননি। যদিও তিনি এই ফলাফলকে অতি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বলছেন, ‘এই হার আমাদের কষ্ট দেয়। কিন্তু এটা কেবল শুরু।’

ম্যাচ কি একপেশে ছিল? ২৩ সেকেন্ড পরই আর্সেনাল লিড নেয়। সিটির নিষ্প্রভ রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। আর দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে আরেকটি গোল। সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার মার্টিন কেউন ম্যাচ শেষে বললেন, ‘ব্যবধানটা ছিল সত্যিই চমকপ্রদ। আর্সেনাল যেন লাগামছাড়া হয়ে গেল, কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রাণহীন দেখাচ্ছিল। আর্সেনাল নিজেদের অভিপ্রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আর্তেতা কাকে দলে নেবেন? ম্যান সিটির সমস্যা আরও অনেক বেশি।’

আর্সেনাল অধিনায়ক ওডেগার্ড বললেন, ‘আমরা কিছু চমৎকার ফুটবল খেলেছিলাম। অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং মৌসুম শুরু করার দারুণ উপায়। আজ আমরা আমাদের সামর্থ্য দেখালাম। দেখিয়ে দিলাম যে আমরা প্রস্তুত। আমরা আন্তরিক এবং আমরা আবার এটা করতে চাই।’

কয়েক মাসের ব্যবধানে আরেকটি ট্রফি জয়ে আনন্দে ভাসছেন ভক্ত-খেলোয়াড়রা। কিন্তু এই ধরনের তুলনামূলক ছোট প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্সকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেটাই ভাবার বিষয়। দশ বারের কমিউনিটি শিল্ড বিজয়ী কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ২০১১ সালে বলেছিলেন, তিনি ম্যাচটি আসলে নতুন মৌসুমের ‘সিঁড়ি’ হিসেবেই সবসময় ভেবে এসেছেন। এমনকি ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর থেকে ৩৪টি চ্যারিটি শিল্ড বা কমিউনিটি শিল্ডের চ্যাম্পিয়নরা মাত্র আটবার লিগে শিরোপা জিতেছে। সবশেষ এই কীর্তি ২০১৮-১৯ মৌসুমে গড়েছিল ম্যানসিটি, তার আগে ২০১০-১১ মৌসুমে ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

এফএইচএম