অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো। বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় পেয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির দলকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে তারা। রোববার ঐতিহাসিক এই জয়ে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে অবস্থান পাল্টাতে না পারলেও শতকরা পয়েন্ট হার বেড়েছে। তাতে ২০২৫-২৭ চক্রের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ।
এই জয়ে বাংলাদেশ তালিকার চার নম্বরেই আছে। তাদের শতকরা পয়েন্ট হার (পিসিটি) ৫৮.৩৩ থেকে বেড়ে ৬৬.৬৭ হয়েছে। তাতে অবিশ্বাস্য কিছু করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে উন্নতি ও ফাইনালের সমীকরণে টিকে থাকারও সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চতুর্থ চক্রে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে ৫টি টেস্ট। শান্ত-তাসকিনরা চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ ম্যাচ খেলে ৩ জয় এবং ১টি করে ড্র ও হার দেখেছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শেষ ম্যাচসহ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশের বাকি আরও ৭ ম্যাচ। এই অ্যাওয়ে সিরিজের পর তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে হোম, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অ্যাওয়ে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে। প্রতিটি সিরিজেই টেস্ট ম্যাচ হবে দুটি করে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। ফাইনালের জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ পয়েন্ট পেতে তাদের আরও ৪৭ পয়েন্ট পেতে হবে।
সেক্ষেত্রে বাকি সাতটি টেস্টের মধ্যে অন্তত চারটিতে জিততে হবে বাংলাদেশ। তিনটি জয় ও দুটি ড্র হলে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়াবে ৫৮.৩৩-এ, যা হয়তো যথেষ্ট হবে না। তাই লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে অন্য দলগুলোকে চমকে দিতে হলে লিটন-মুশফিকদের নিজেদের সেরাটা উজাড় করে খেলতে হবে। এর আগে শুরুটা তারা দারুণভাবেই করেছিল।

চলমান চক্রে শ্রীলঙ্কার মাটিতে গলে ড্র দিয়ে টেস্ট অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে কলম্বোতে তারা দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায়। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল শান্তর দল। এরপর অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও ১-০ তে এগিয়ে গেল। তবে তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে। কেয়ার্নসে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড (১০ বছর পর) সিরিজ আয়োজন করবে ঘরের মাঠে।
অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক সূচনার আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে বাকি সাত ম্যাচেও চমক দেখাতে চাইবে বাংলাদেশ। সবশেষ বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৬ সালে। চট্টগ্রামে ২২ রানে হারলেও মিরপুরে বাংলাদেশ জিতেছিল ১০৮ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও বাংলাদেশ তাদের সবশেষ টেস্ট জিতেছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কিংসটনে ১০১ রানের স্মরণীয় জয় পেয়েছিল তারা। আর ক্যারিবিয়ানদের ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দিয়ে শেষবার তাদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল ২০০৯ সালে! কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সব মিলিয়ে ১৬ টেস্ট খেলে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ।
এই চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে দ্বিতীয় হারের পরও অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবধান কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পিসিটি ৭৭.৭৭, দক্ষিণ আফ্রিকার ৭৫.০০। নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ পিসিটি নিয়ে তিনে। বাংলাদেশ তাদের পরে অবস্থান করছে। ভারত ৪৮.১৫ পিসিটি নিয়ে পঞ্চম স্থানে।
এফএইচএম
