বিজ্ঞাপন

রেফারির বডি ক্যামেরায় ধরা পড়ল আরও অনেক মুহূর্ত

ফাইনালে বারবার এক খেলোয়াড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেসিকে অনুরোধ করেন রেফারি

ফাইনালে বারবার এক খেলোয়াড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেসিকে অনুরোধ করেন রেফারি

বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রধান রেফারি ছিলেন স্লাভকো ভিনচিচ। ওই ম্যাচের পরই রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন তিনি। হয়তো রেফারি হিসেবে ‘ক্যারিয়ার সেরা’ ম্যাচকে হৃদয়ের বিশেষ স্থানে জায়গা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভিনচিচ। বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে সেরা দৃশ্যটি উপভোগ করার সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন। নতুন প্রকাশিত ফুটেজে দর্শকেরা স্লোভেনিয়ান রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে যা যা ঘটেছিল তার কিছু অংশ দেখতে পাচ্ছেন।

ম্যাচে আগেই হলুদ কার্ড পাওয়া লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নিয়ন্ত্রণ করতে লিওনেল মেসিকে অনুরোধ জানানো থেকে শুরু করে স্পেনের হয়ে ফেরান তোরেসের ম্যাচ জেতানো গোলের দৃশ্য দেখা কিংবা মেডেল প্রদান অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে দুইবার ‘চমৎকার কাজ করেছেন’ বলে প্রশংসা পাওয়া—ভিনচিচ ম্যাচের মূল ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন তার বডি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে।

ম্যাচ শুরুর আগে টানেলের ভেতর থেকে ফুটেজটি শুরু হয়। দেখা যায় মেসি ম্যাচ অফিশিয়ালদের সাথে সংক্ষিপ্ত হ্যান্ডশেক ও পরিচয়ের আগে মার্ক কুকুরেয়া ও রদ্রিসহ বেশ কয়েকজন স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ধরছেন। তবে টসের সময় অধিনায়ক রদ্রি ও মেসির মধ্যে কী কথা হয়েছিল, সেটা চাপা পড়ে গিয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাউন্ড সিস্টেমে বেজে ওঠা ডেভিড গেটার ‘টাইটানিয়াম’ গানের আওয়াজের কারণে।

ফুটেজটি যখন খেলার মূল দৃশ্যে চলে আসে, তখন শুরুতেই ভিনচিচকে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। লিভারপুল মিডফিল্ডারের ফাউলের প্রসঙ্গে তিনি শেষ পর্যন্ত অ্যালিস্টারকে সতর্ক করে বলেন, ‘তোমার জন্য এটাই শেষ সুযোগ’।

পরের দৃশ্যে যখন মেসি একটি সংকীর্ণ জায়গায় বল পান, বলটি বাঁ পায়ে ঘুরিয়ে রদ্রিকে পরাস্ত করেন এবং স্পেনের অধিনায়ক তাকে টেনে ধরে ফাউল করলে একটি ফ্রি কিক পান। ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায় শিশুকালে মেসির কোলে গোসল করা স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালকে। একটি কাউন্টার অ্যাটাক থামানোর চেষ্টায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্টিনেজ তাকে ফাউল করে ফেলে দেন। এতে মার্টিনেজকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

ফাউলের সময় ম্যাচ কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিলেন তা বোঝাতে ভিনচিচ বলেন, ‘লিওনেল, আমি দেখেছি’, যখন মেসিকে টেনে ধরা হয় এবং তিনি স্লোভেনিয়ান রেফারির দিকে ফেরেন। এই কথায় ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড রেফারির সাথে কোনো তর্কে না গিয়ে ঘুরে দাঁড়ান। প্রায় পাঁচ মিনিটের ভিডিওতে বেশিরভাগ সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে স্বাভাবিক দেখা গেছে।

তবে ভিনচিচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শটি আসে, যখন তিনি মেসিকে বলেন পারেদেসকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে দ্বিতীয় অর্ধে মাঠে নামানো হয়েছিল এবং মাত্র ছয় মিনিট পরেই তিনি হলুদ কার্ড দেখেন। ভিনচিচকে বলতে শোনা যায়, ‘মেসি, পারেদেসকে নিয়ন্ত্রণে রাখো। আমি ওকে দিতে চাই না... ওর হলুদ কার্ড আছে। দয়া করে নিয়ন্ত্রণে রাখো। সবসময়, সবসময়।’

পারেদেস ম্যাচের সময় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এড়িয়ে মেসির পরামর্শ মেনে চলেন। কিন্তু ফুলটাইম বাঁশি বাজার পর তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। তিনি স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং পরবর্তীতে আরেক স্প্যানিশ খেলোয়াড় গাভিকে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। ২৯ জুলাই ফিফা ঘোষণা করে যে পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি আক্রমণের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তবে রেফারির আই-ভিউ বিশ্বকাপের ফাইনাল ফুটেজে এই হাতাহাতির দৃশ্যটি দেখানো হয়নি।

২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পুরুষদের বিশ্বকাপে রেফারির বডি ক্যামেরার ব্যবহার করা হয়। যদিও এই গ্রীষ্মে ফিফা একটি ‘স্ট্যাবিলাইজেশন অ্যালগরিদম’ ব্যবহার করেছে। তারা জানায় তাদের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার লেনোভোর সঙ্গে যৌথভাবে এটি তৈরি করা হয়েছিল।

এফএইচএম