ক্লাব ফুটবলে একের পর এক সাফল্যের যাত্রায় বিরতি নিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। গত মৌসুম শেষ হতেই তিনি ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১০ বছরের সম্পর্কে ইতি টানেন। ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সুযোগ থাকলেও, তা ফিরিয়ে দিয়েছেন গার্দিওলা। ম্যানসিটির সঙ্গে তার শেষ সময়ের নানা ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে একটি তথ্যচিত্র। যেখানে স্প্যানিশ এই কোচের রাগ-ক্ষোভ-আবেগের মিশেলে গড়া কিছু দৃশ্য উঠে এসেছে।
অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর প্রযোজনায় নির্মিত ‘অ্যা বিউটিফুল অবসেশন’-এর একটি দৃশ্যে ওয়েম্বলিতে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনালের বিরতিতে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে বেশ কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করতে দেখা যায় গার্দিওলাকে। প্রথমে তিনি জানতে চান, হালান্ড ক্লান্ত কি না। এই স্ট্রাইকার ক্লান্ত নন জানালে আরও কঠোর হয়ে ওঠেন ম্যানসিটির স্প্যানিশ কোচ।
তথ্যচিত্রটির তৃতীয় পর্বে গার্দিওলাকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই ফাইনালে সালিবা এবং অন্য সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে যেভাবে বলের জন্য লড়াই করেছিলে, এখন সেভাবে লড়ছ না কেন? ক্লান্ত হলে এখনই আমাকে বলো। আমি ছয়জন খেলোয়াড়কে বাইরে রেখেছি। যাদের বাইরে রাখায় আমার লজ্জা হচ্ছে। তোমার মান কোথায়? ডিফেন্সের পেছনে তোমার দৌড় কোথায়? বক্সে তোমার উপস্থিতি কোথায়?’
এরপর অবশ্য সুর কিছুটা নরম করেন গার্দিওলা, তবে হালান্ডের প্রতি তার বার্তা একই থাকে, ‘আমি এখনও তোমাকে ভালোবাসি আর্লিং– বাবার মতোই। এখনও ভালোবাসি। কিন্তু বিষয়টা সেটা নয়। তুমি জিততে চাও সেটা দেখাও।’
হালান্ডের সঙ্গে এই কথোপকথনটি দেখা যায়। যুক্তরাজ্যে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মোট চারটি পর্বে প্রকাশিত হতে যাওয়া এই প্রযোজনায় সিটির কোচ হিসেবে গার্দিওলার শেষ দিকের বছরগুলোর নেপথ্যের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এমন অনেক বক্তব্য ও দৃশ্যও এতে রয়েছে, যেগুলো এতদিন শুধু ড্রেসিংরুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
আরেকটি দৃশ্যে লিভারপুলের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে হারের পর ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার ও গার্দিওলাকে তর্ক করতে দেখা যায়। তৎকালীন অধিনায়কের একটি বল হারানোর সমালোচনা করেছিলেন কোচ। জবাবে ওয়াকার অভিযোগ করেন, দলের মিটিংয়ে তাকে প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে টানা হয়। ওয়াকার বলেন, ‘প্রতিটি মিটিংয়ে আপনি আমার নাম বলেন। প্রতিটিতেই আমার নাম!’ জবাবে গার্দিওলা বলেন, ‘হয়তো তুমি অধিনায়ক বলেই…।’
তথ্যচিত্রে গার্দিওলার সবচেয়ে ব্যক্তিগত বক্তব্যগুলোর একটিও উঠে এসেছে। ২০২৪/২৫ মৌসুমে সিটির খারাপ সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে নিজের বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে এনে দলের খেলোয়াড়দের আবেগ ও উদ্দীপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তথ্যচিত্রে গার্দিওলার সঙ্গে ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের মতবিরোধও উঠে এসেছে। একটি ম্যাচে একাদশে ১০টি পরিবর্তন আনার পর ক্লাবের প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানো ও প্রেসিডেন্ট খালদুন আল মুবারকের বলে দাবি করা ভয়েস মেসেজে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায়।

ড্রেসিংরুমে আরেকটি কড়া বক্তব্যে গার্দিওলা খেলোয়াড়দের হুঁশিয়ার করে বলেন, তার সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট কাউকে তিনি মেনে নেবেন না। কোচ বলতে থাকেন, ‘মৌসুম শেষে তোমাদের মুখে যখন বিষণ্ণতা দেখব, তখন তোমাদের মেরে ফেলব। আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে তোমাদের অভিযোগ করতে দেখলে, তোমাদের মেরে ফেলব।’ এরপর প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবি জানান তিনি।
তথ্যচিত্রের শেষদিকে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান গার্দিওলা, ‘আমি কেন চলে যাচ্ছি, সেটা আমাকে জিজ্ঞেস করো না। কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। কিন্তু ভেতর থেকে আমি জানি, আমার সময় শেষ হয়েছে। আমাকে অনেক কিছু নতুন করে সাজাতে হবে। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কিছু ঘটেছে এবং পেশাগতভাবেও আমাকে অন্য অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সবকিছুর চেয়ে বেশি– আমাকে একটু স্বস্তি পেতে হবে এবং সময়কে বয়ে যেতে দেখতে হবে।’
এএইচএস
