স্নায়বিক সমস্যার কারণে চারদিনের মাঝে দু’বার খেলার মাঠে ঢলে পড়লেন বায়ার্ন মিউনিখের জার্মান তারকা জামাল মুসিয়ালা। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার এই বিষয়টি ‘এক ধরনের মৃগি রোগ বা খিঁচুনি’ বলে শনাক্ত হয়েছে। যদিও হৃদয়বিদারক দুটি ঘটনায় স্বাস্থ্যের অন্য কোনো বাড়তি ঝুঁকি নেই বলে জানালেন জামাল। এদিকে, তার ঢলে পড়ার ভিডিও দেখে সহানুভূতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন ফুটবলার, ক্লাব থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার হাইডেনহাইমে বায়ার্নের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠেই পড়ে যাওয়ার এই ঘটনা ঘটে। এর তিন দিন আগে লাইপজিগের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সর্বশেষ গতকাল জার্মান এই ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরেই মাঠে পড়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় উভয় দলের খেলোয়াড়রা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সহায়তা করেন উভয় দলের সতীর্থরা।
— La Perla (@Perla_Londres) August 18, 2026
জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের ম্যাচে মাঠে পড়ে যাওয়ার পর জামাল নিজে হেঁটেই মাঠ ছেড়েছিলেন, তবে ওই সময় তাকে কিছুটা হতভম্ব দেখাচ্ছিল। মঙ্গলবার ম্যাচের পর মুসিয়ালা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় জানিয়েছেন, স্নায়বিক সমস্যার (নিউরোলোজিক্যাল ইস্যু) কারণে তার সাময়িক কিন্তু ‘সহজে নিরাময়যোগ্য অ্যাবসেন্স সিজার’ (এক ধরনের মৃগী রোগ বা খিঁচুনি) শনাক্ত হয়েছে।
মুসিয়ালা লেখেন, ‘এসবের (স্নায়বিক সমস্যা) কারণেই সম্প্রতি লাইপজিগ বা হাইডেনহাইমের ম্যাচের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে স্বাস্থ্যের অন্য কোনো বাড়তি ঝুঁকি নেই। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় ও নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়াটা ছিল আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা।’
দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং ফুটবলীয় ধরে রেখে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চান প্রতিভাবান এই তারকা, ‘স্নায়বিক রোগ বিশেষজ্ঞদের সম্মতিক্রমে আমি এখন এমন কিছুতেই নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই যা আমার সেরে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে। আর তা হলো স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাপন করা এবং ফুটবল খেলার প্রতি আমার যে আবেগ, তা ধরে রাখা।’
নিজেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তারকার খিঁচুনির বিষয়টি উল্লেখ না করেই বায়ার্ন মিউনিখ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আঘাতজনিত কারণে জামাল মুসিয়ালাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’ আগের ম্যাচে জামালের চোট নিয়ে বায়ার্নের ভাষ্য ছিল, গরম বা মাথা ঘোরার কারণে সাময়িক এই প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

পরপর দুই ম্যাচে একই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে জামাল মুসিয়ালার সাম্প্রতিক ইনজুরি বিষয়টি ফের সামনে এসেছে। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে গুরুতর পায়ের চোট পান তিনি। এতে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায়। এরপর বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। কয়েকটি লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা। এরপর তিনি জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন। তবে তার চোট পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছিল বেশ সতর্কতার সঙ্গে।
এএইচএস
