৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচ পরই তারা দুই ইনিংসে ২৩ ও ০ রানে আউট হওয়া ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে স্কোয়াড থেকে ছেটে ফেলেছে। তার বদলে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে ডাক পেয়েছেন ম্যাট রেনশ। অস্ট্রেলিয়া নির্বাচকদের ওই সিদ্ধান্তে তিনি নিজেও হতবাক।
প্রায় ১০ বছর আগে মাত্র ২০ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল রেনশ’র। এরপর থেকে বাঁ–হাতি এই ওপেনার তিনবার টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন। স্ত্রী জোসি ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ব্রিসবেনে থাকাবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলির ফোনকল পান রেনশ। তিনি জানালেন, ‘সত্যি বলতে আমি এটা আশাও করিনি, ফলে যখন আমার ফোনে তার নামটা (বেইলি) এলো আমি বেশ হতবাক হয়ে যাই।’

অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম ‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’কে রেনশ বলেন, ‘১০ বছর আগে নিজের ছবিগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, যেন এক ছোট্ট শিশু টেস্ট ক্রিকেট খেলছে। বিষয়টা বেশ অদ্ভুতই ছিল, তবে এবার সুযোগ পেলে আশা করি অনেক ভালো মানসিক ও শারীরিক অবস্থায় থাকব।’ প্রথম টেস্টের আগে ব্রিসবেনে ১৯ সদস্যের যে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তিনি ছয় সপ্তাহ ধরে ছিলেন, তার অংশ হওয়া সত্ত্বেও রেনশ বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেননি যে তাকে আবারও ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে আনা হবে।
সেই ক্যাম্পে ভালো প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথাও জানালেন ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার, ‘নিজে আরও ভালো হয়ে ওঠার জন্য ওটা ছিল দারুণ এক প্রস্তুতি। ওই কয়েকটা সপ্তাহ আমি সেভাবেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি, নিজেকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে। সপ্তাহে তিনবার বিশ্বের সেরা কয়েকজন বোলারের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল সত্যিই দারুণ ব্যাপার। আমি বিষয়টিকে এভাবেই দেখেছি, আর সৌভাগ্যবশত আমি এখন এখানে।’
২০১৭ সালে বাংলাদেশের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। যা ছিল তাদের প্রথম কোনো টেস্ট হারের অভিজ্ঞতা। সেই দলে ছিলেন রেনশ–ও, এরপরই তিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন প্রথম দফায়। কেবল পরিসংখ্যানের বিচারে দেখলে সেই সিদ্ধান্তটি ছিল বেশ কঠোর। ওই সফরে সবমিলিয়ে ৪ ইনিংসে ৭৬ রান করেন এই অজি ওপেনার। অবশ্য উসমান খাজার দীর্ঘমেয়াদী উত্তরসূরি হওয়ার সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য তিনি এখন নিজেকে বেশ প্রস্তুত ও স্থিতিশীল মনে করছেন।
গত মৌসুমে রেনশ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে খাজা বলেছিলেন, ‘আমি জানি, রেনশকে যদি দলে নেওয়া হয়, তবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে এবং রান করতে সে এখন সেরা মানসিক অবস্থায় আছে। স্বাভাবিকভাবেই আমার কথায় কিছুটা পক্ষপাত থাকতে পারে, কারণ সে আমার (কুইন্সল্যান্ডের হয়ে) ওপেনিং সঙ্গী ও বন্ধু। তবে সে আগেও এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং সফল হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সে ১৮৪ রানের ইনিংসও খেলেছে।’
‘অস্ট্রেলিয়া দলে তার আসা-যাওয়ার বিষয়টি তাকে আরও পরিণত হতে সাহায্য করেছে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি তা জানি। যখন আবার সুযোগ আসে, তখন আগের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়। রেনি (রেনশ) যখনই সুযোগ পাবে... আমি জানি সে তার জন্য প্রস্তুত থাকবে’, আরও বলেছিলেন খাজা। তার সেই কথা সত্যি করতেই এবার পুরোপুরি চেষ্টা চালাবেন রেনশ।
ম্যাকাইতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর টেস্টে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে তিনি ওপেনিংয়ে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত ১৪ টেস্টে ১ সেঞ্চুরি ও ৩ হাফসেঞ্চুরিতে ৬৪৫ রান করেছেন রেনশ। সম্প্রতি ২০২৫/২৬ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে ৪৯.৯ গড়ে তিনটি সেঞ্চুরি করে তিনি শীর্ষস্থানীয় ব্যাটারও হয়েছেন।
এএইচএস
