বিজ্ঞাপন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দামি একাদশে রোনালদোসহ যেসব তারকারা

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দামি একাদশে রোনালদোসহ যেসব তারকারা

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক সময়টা মাঠের পারফরম্যান্সে খুব একটা সুখকর নয়। তবে দল গড়তে কিংবা তারকাদের ধরে রাখতে বিপুল অর্থ খরচ করতে কার্পণ্য করেনি ইংলিশ ক্লাবটি। বছরের পর বছর কাড়িকাড়ি অর্থ ঢেলে বড় বড় তারকাদের দলে রেখেছে দলটি। দেখে নেওয়া যাক দলটির সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া একাদশ।

৪-৪-২ ফরম্যাটে সাজানো এই একাদশে জায়গা পেয়েছেন ক্লাবটির বিভিন্ন সময়ের তারকারা। তালিকায় যেমন আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তেমনি আছেন রাদামেল ফালকাও, অ্যালেক্সিস সানচেজ ও রাফায়েল ভারানেদের মতো তারকারা। সবচেয়ে বেশি বেতনের খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো।

গোলরক্ষক: দাভিদ দে হেয়া — ৩ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ১২ বছর কাটিয়েছেন দে হেয়া। শেষ কয়েক বছরে তার সাপ্তাহিক বেতন ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শেষের দিকে তার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা যায়।

রাইটব্যাক: নুসাইর মাজরাউই — ১ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড

বায়ার্ন মিউনিখ থেকে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর চার বছরের চুক্তিতে সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড বেতন পাচ্ছেন মাজরাউই। তার বেতন ক্লাবটির সাবেক তারকা অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, ডিওগো দালোত, আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া ও গ্যারি নেভিলের চেয়েও বেশি।

সেন্টারব্যাক: রাফায়েল ভারানে — ৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড

রিয়াল মাদ্রিদে শেষ মৌসুমে সপ্তাহে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড পেতেন ভারানে। ইউনাইটেড তাকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আনতে বেতন বাড়িয়ে দেয় ৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে। ফরাসি এই ডিফেন্ডারই এখন পর্যন্ত ইউনাইটেডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া ডিফেন্ডার। 

সেন্টারব্যাক: ম্যাথিয়াস ডি লিট — ১ লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ড

বর্তমানে ইউনাইটেডের হয়ে খেলা ডি লিট সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন। এই বেতন রিও ফার্দিনান্দ ও নেমানিয়া ভিডিচের ইউনাইটেড-সময়কার বেতনের চেয়েও বেশি। ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকা ডাচ ডিফেন্ডারের জন্য বছরে ১ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ হচ্ছে ক্লাবটির।

লেফটব্যাক: লুক শ — ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড

২০২৩ সালের এপ্রিলে ইউনাইটেডের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেন লুক শ। সেই চুক্তি অনুযায়ী তার সাপ্তাহিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। কিন্তু চুক্তি নবায়নের পর থেকে চোটই তার সবচেয়ে বড় বাধা। গত দুই মৌসুমের বড় একটা সময় মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই ডিফেন্ডার।

মিডফিল্ড: অ্যালেক্সিস সানচেজ — ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড

ইউনাইটেডের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত বেতনের চুক্তিগুলোর একটি ছিল সানচেজের। সপ্তাহে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড বেতন পাওয়া চিলির এই ফরোয়ার্ড ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিজের আর্সেনাল-সময়কার ছায়াও হয়ে উঠতে পারেননি।

মিডফিল্ড: কাসেমিরো — ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাফল্যের শীর্ষে থাকার সময় কাসেমিরোর সাপ্তাহিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার পাউন্ড। ইউনাইটেড তাকে দলে ভেড়াতে প্রায় দ্বিগুণ করে দেয় সেই অঙ্ক—সপ্তাহে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে কিছু ভালো সময় উপহার দিলেও তার বার্ষিক প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ পাউন্ড বেতন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

মিডফিল্ড: ব্রুনো ফার্নান্দেজ — ৩ লাখ পাউন্ড

ইউনাইটেডের বর্তমান অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের সাপ্তাহিক বেতন ৩ লাখ পাউন্ড। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে সেই বেতনকে অনেকটাই যৌক্তিক করে তুলেছেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তাকে ধরে রাখতে তাই ইউনাইটেডকে আরও বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিতে হতে পারে।

মিডফিল্ড: মার্কাস র‍্যাশফোর্ড — ৩ লাখ পাউন্ড

২০২৩ সালের দুর্দান্ত মৌসুমের পর র‍্যাশফোর্ডকে পাঁচ বছরের নতুন চুক্তি দেয় ইউনাইটেড। সাপ্তাহিক বেতন নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৩ লাখ পাউন্ড। চুক্তির আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩০ গোল করেছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। কিন্তু নতুন চুক্তির পর আর সেই ছন্দে ফিরতে পারেননি।

স্ট্রাইকার: রাদামেল ফালকাও — ২ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড

২০১৪-১৫ মৌসুমে ধারে ইউনাইটেডে এসেছিলেন ফালকাও। কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ডকে আনতে মোনাকোকে প্রায় ৬০ লাখ পাউন্ড লোন ফি দেওয়ার পাশাপাশি তার পুরো ২ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড সাপ্তাহিক বেতনও বহন করেছিল ইউনাইটেড। কিন্তু বিনিময়ে পাওয়া গিয়েছিল মাত্র ২৯ ম্যাচে ৪ গোল। বিশাল বেতনের তুলনায় যা ছিল নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

স্ট্রাইকার: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো — ৫ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড

এই একাদশের সবচেয়ে বড় নাম, একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় বেতনের খেলোয়াড়ও রোনালদো। ২০২১ সালে ম্যানচেস্টারে ফেরার সময় তাকে সপ্তাহে ৫ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড বেতনের চুক্তি করেছিল ইউনাইটেড। তাকে ঘিরে ম্যানচেস্টারে তখন তৈরি হয়েছিল নতুন উন্মাদনা। প্রথম মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল করে সমর্থকদের প্রত্যাশারও প্রতিদান দিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। তবে দ্বিতীয় মৌসুমে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৩ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও সেটি আগেই বাতিল হয়ে যায়। এরপর ফ্রি ট্রান্সফারে আল-নাসরে যোগ দেন রোনালদো।

এইচজেএস