ঢাকা আবাহনীর দল গঠন নিয়ে ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। একে তো ফিফা নিষেধাজ্ঞা, তার ওপর ফুটবলারদের সঙ্গে হয়নি চূড়ান্ত কোনো কথা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেছে দৃশ্যপট। পরশু রাতে উঠে গেছে ফিফার নিষেধাজ্ঞা। আর গতকাল রাতে বিশের অধিক ফুটবলারদের সঙ্গে কথা পাকাপাকিও করেছে ঢাকা আবাহনী।
প্রায় দুই দশক ধরে আবাহনীর দল গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছেন ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু। ফিফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেও তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। এরপরই আকস্মিকভাবে তাকে পর্দার আড়ালে নেন ক্লাবের নীতি-নির্ধারকরা। এই পরিস্থিতিতে গত দুই মৌসুমে আবাহনীর হয়ে কোচিং করানো মারুফুল হক ফুটবলারদের তালিকা তৈরি করেন। বিশ্ব জুড়ে কোচের চাহিদা অনুযায়ীই দল হয়। তবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের নেয়ার পর কোচদের চূড়ান্ত করেন। ফলে অনেক সময় কোচের কৌশল-পরিকল্পনার সঙ্গে আপোস করতে হয়।
মারুফুল হক দেশের অন্যতম সেরা কোচ। এবার আবাহনীর দল গঠনেও খানিকটা ভূমিকা রাখলেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফুটবলার রিক্রুমেন্ট তো কোচের স্বাভাবিক কাজের অংশ। এটি আগে হয়নি, সেটাই বরং অস্বাভাবিকতা। এখানে সংগঠক হয়ে যাওয়ার কিছু নেই।’
আবাহনীতে গতবার হাসান মুরাদ, বাবলু, আল আমিন, মোরসালিনরা ছিলেন। তাদের প্রায় সবাইকে ধরে রেখেছে আবাহনী। যারা গত মৌসুমে অনেক সম্মানী পেয়েছিলেন, তারা এবার কিছুটা কমে ক্লাবের স্বার্থে খেলছেন।
জাতীয় দলে ১৫ ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ফরোয়ার্ড আল আমিন এবারও আবাহনীতে। দুঃসময় পার করা এই ফুটবলার বলেন, ‘ক্লাবের ফুটবল নিয়েই পূর্ণ মনোযোগ। গতবারের চেয়ে এবার একটু কমে খেলছি, ক্লাবের স্বার্থ বিবেচনায়।’
মোহামেডান এবার বড় বাজেটের দল গড়েছে। বসুন্ধরা কিংস নিষেধাজ্ঞায় থাকলেও তপু-রাকিবের মতো তারকা ফুটবলারদের দলে রেখেছে। আবাহনীতে খানিকটা কম পারিশ্রমিকে খেললেও কিংস ও মোহামেডানে না যাওয়ার কারণ সম্পর্কে আল আমিন বলেন, ‘মোহামেডানে আমার পজিশনে খেলোয়াড় রয়েছে। কিংসে আলোচনা হলেও বনিবনা শেষ পর্যন্ত হয়নি।’
আবাহনীর ফিফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও বিদেশি ফুটবলারদের বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া নতুন চুক্তি অনুযায়ী শোধ না করলে আবার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই আবাহনী চলতি মৌসুমে কিছুটা কম বাজেটের মধ্যেই দল গড়েছে। এরপরও বিদেশি খেলোয়াড় নিয়েই মাঠে নামার পরিকল্পনা কোচের। তিনি বলেন, ‘তেসরা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। বিদেশি ফুটবলার নেওয়ার ভাবনা রয়েছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।’
আবাহনীর নির্ভরতার প্রতীক গোলরক্ষক মিতুল মারমা। তিনি এখনও আকাশি জার্সিতে স্বাক্ষর করেননি। এ নিয়ে মিতুলের বক্তব্য, ‘আমার সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিছু বিষয় রয়েছে, সেগুলো ফাইনাল হলে আজকের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেব।’
ফর্টিজ ও পুলিশ এএফসি টুর্নামেন্ট খেলায় তারা অনেক আগে থেকে ক্যাম্প শুরু করেছে। অন্য ক্লাবগুলো এখনও ক্যাম্পই শুরু হয়নি। ফলে ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ ও ২৮ আগস্ট লিগ শুরু হওয়া বাস্তবিক অর্থে সম্ভব নয়। এরপরও আবাহনীর পরিকল্পনা রয়েছে দ্রুতই অনুশীলন শুরু করা।’
এজেড/এমএমএম
