বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের কাছে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়াকে যে হুঁশিয়ারি দিলেন লারা

বাংলাদেশের কাছে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়াকে যে হুঁশিয়ারি দিলেন লারা

পেস আক্রমণ দিয়ে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের পুরো সুবিধা নিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া। যা সাদা বলের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’ বলেও অনেকেই মনে করছেন। ফলে খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে কঠোর হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, যা নিয়ে তাদের হুঁশিয়ারি দিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা।

আগামী ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে লড়বে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। তার আগে ডারউইন টেস্টে উল্লেখযোগ্য ফর্ম দেখাতে ব্যর্থ জ্যাক ওয়েদারল্ডকে বাদ দিয়ে ম্যাট রেনশকে দলে নিয়েছে জর্জ বেইলি নেতৃত্বাধীন অজি নির্বাচক প্যানেল। এভাবে হুট করে খেলোয়াড় বদলি করতে দেখেই অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করলেন লারা।

খেলোয়াড় ছাটাই কিংবা অবসরের ঘটনা বেশিসংখ্যক যেন না হয় সেই পরামর্শ দিয়ে অজি গণমাধ্যম ‘কোড স্পোর্টস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারিবীয় এই কিংবদন্তি বলেন, ‘এক-দুজন খেলোয়াড়ের অবসর সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই, যখন অনেকেই একসঙ্গে চলে যায়। ধাপে ধাপে বদল হওয়াই ভালো। যদি একসঙ্গে চার-পাঁচজন মূল ক্রিকেটার বিদায় নেয়, এই রিজার্ভ দল নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।’

ডেভিড ওয়ার্নারের পর আরেক অজি ওপেনার উসমান খাজা ইতোমধ্যেই অবসর নিয়েছেন। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথদের ক্যারিয়ার সায়াহ্ন চলে এসেছে। তাদের বিদায়টা অল্প সময়ের ব্যবধানে হলে এরপর শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা লারার। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চেও শক্ত ব্যাক-আপ দেখছেন না তিনি। যদিও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কাঠামো বেশ শৃঙ্খলিত, পাইপলাইনও কম সমৃদ্ধ নয়।

‘আগে কখনও এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি’ অস্ট্রেলিয়া, বাধ্য করল বাংলাদেশ!

সাবেক উইন্ডিজ তারকা লারার হুঁশিয়ারি দেওয়ার নেপথ্য কারণও অবশ্য স্পষ্ট। কারণ তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সোনালী প্রজন্ম পেরিয়ে পতনটা কাছ থেকে দেখেছেন। এক সময়ের দাপুটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটা বিশাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ১৯৯১ সালের ইংল্যান্ড সফরের পর হঠাৎ করেই একে একে বিদায় নেন ভিভ রিচার্ডস, গর্ডন গ্রিনিজ, জেফ ডুজন। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়েন ম্যালকম মার্শালও। একঝটকায় বদলে যায় সব। সেই সূত্র ধরেই লারা অস্ট্রেলিয়ানদের একসঙ্গে বিদায়ের মিছিল ধরতে নিষেধ করলেন। 

লারা তার নিজের ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার পেছনের অভিজ্ঞতার আলোকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্যের আকস্মিক পতনের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছিল, যখন গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনদের মতো খেলোয়াড়রা অল্প সময়ের ব্যবধানে দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।’ মাত্র ২২ বছর বয়সী লারার সঙ্গে বেশ কিছু বড় নাম তখন ক্যারিবীয় দলে থাকলেও, তারা ঠিক ধারাবাহিক ছিলেন না।

এএইচএস