স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছিল আর্জেন্টিনার। তবে হারের চেয়েও বড় আলোচনায় ছিল লিওনেল স্কালোনির দলের ম্যাড়ম্যাড়ে পারফরম্যান্স। এরপর ড্রেসিংরুমে লিওনেল মেসির একটি ভিডিও এবং নানা সমীকরণ মিলিয়ে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ আবিষ্কার করে সমর্থকদের বড় একটি অংশ। যা নাকচ করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এবার তারা আবেগঘন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।
এএফএ’র ওই ভিডিওতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলা এবং একের পর এক ম্যাচ পেরিয়ে ফাইনালে ওঠার স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানিয়ে ‘কখনও চেষ্টা থামিয়ে না দেওয়ার’ প্রেরণাও দিয়েছে কাতার আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই ফুটবল সংস্থা।
বিশেষ ভিডিওটিতে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপযাত্রার বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি দেখানোর সময় ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে এমন কিছু ঘটেছিল, যা অনেকেই চাননি। আর্জেন্টিনা আবারও একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে। অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেও সত্যিটা হলো, এটা ঘটেছিল। আমরা যেসব ম্যাচ মোকাবিলা করেছি, সেগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছি এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছি।’
ভিডিওর বার্তায় বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’র প্রসঙ্গও এসেছে। এএফএ বলছে, ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী যত প্রচারণাই থাকুক না কেন, আমরা একই অবস্থানে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন আপনাকে বলে, কিছু একটা ঘটেছিল, আপনি বলতে পারেন– হ্যাঁ, ঘটেছিল। ঘটেছিল এমন একটি দলের, যারা জয়ের জন্য নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। যারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, কখনও হাল ছাড়েনি। যারা সবকিছু জিতেছিল, কিন্তু এবার তাদের হারতে হয়েছে।’
— Selección Argentina (@Argentina) August 19, 2026
শেষদিকে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসির রানার্সআপ পদক পাওয়ার পর কান্নার দৃশ্যটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সময় ঘোষকের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘আমাদের অধিনায়কের চোখের জল আবারও আমাদের দেখিয়েছে– আপনি জিততে পারেন, হারতেও পারেন। কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, একটি কাজ আপনি করতে পারেন না, চেষ্টা থামিয়ে দিতে পারেন না।’
প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ দাবি করেন, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা গম্ভীর মুখে পৌঁছেছিলেন। গ্যালারিতে দেখা যায়নি দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলারদের। কেউবা বলছেন, ১২০ মিনিটে মাত্র একবার গোলমুখে শট নেওয়া দলের উদ্দেশে মাঠে নামার আগে মেসি বলেছিলেন, ‘সবকিছু ভুলে যাই।’ আবার এনজো ফার্নান্দেজ নাকি শুধু কথা বলার কারণেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। এমন অসংখ্য তত্ত্ব ও সন্দেহ ফুটবল-দুনিয়াজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবলার, কোচ থেকে শুরু করে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া– প্রত্যেকেই সেই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন। মেসিদের ড্রেসিংরুম কাণ্ড ও তথাকথিত ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে তাপিয়া সরাসরি সতর্ক করে লিখেছিলেন, ‘কোনো মিথ্যা বা অপপ্রচারে কান দেবেন না, যা কেবল আমাদের অস্থিতিশীল করতেই তৈরি করা হয়েছে। যারা আর্জেন্টিনার ফুটবলকে এত কিছু দিয়েছে, তাদের বিভাজিত করার চেষ্টা বন্ধ করুন। আমরা স্পেনকে হারাতে পারিনি। তারা আমাদের চেয়ে সেরা ফুটবল খেলেছে এবং কোনো অজুহাত ছাড়াই ন্যায্যভাবে জয়ী হয়েছে।’
এএইচএস
