অবশেষে হাসি ফুটেছে অস্ট্রেলিয়ান ধারাভাষ্যকারদের মুখে। ডারউইন টেস্টের ১১ সেশনের প্রায় বেশিরভাগ জুড়েই দাপট ছিল বাংলাদেশের বোলার কিংবা ব্যাটারের। সাড়ে তিন দিনে শেষ হওয়া সেই ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল ৯ উইকেটে জিতে ইতিহাস গড়ে। ম্যাকাইতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুদ্রার অপরপিঠে বাংলাদেশ। ২১ রানেই তারা ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে।
কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় বাংলাদেশের এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় কৌতুক করতে ছাড়লেন না স্বাগতিক অজি ধারাভাষ্যকাররা। তাদের কাছে মনে হয়েছে ম্যাকাইয়ের এই মাঠ একটি চিড়িয়াখানা, যেখানে রয়েছে নানা জন্তুর উপস্থিতি। শুরুটা করেন সাবেক অজি তারকা ও ধারাভাষ্যের প্রাণচঞ্চল মুখ কেরি ও’কিফ।
ও’কিফ বলেন, ‘গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনা কি বিস্ময়কর। এটি অনেকটা চিড়িয়াখানার মতো, তাই না? এখানে চারটি হাঁস আছে, জিরাফরা তিনটি ক্যাচ নিয়েছে এবং স্কয়ার লেগে একটি সিংহ দেখা যাচ্ছে।’ সেই কৌতুকটা সম্পন্ন হয়েছে অজি কিংবদন্তি মার্ক ওয়াহ’র অবদানে, ‘এবং এখানে বয়স্ক বাঘ রয়েছে, যারা ক্ষতবিক্ষত।’
একেবারে প্রথম বল থেকেই ম্যাকাইতে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরুটা হয়। ওপেনার সাদমান ইসলামকে গালি ফিল্ডার ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ বানান মিচেল স্টার্ক। এ সময় ফক্স ক্রিকেটের ধারাভাষ্যে থাকা আরেক কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, ‘এটি মিচেল স্টার্কের মানসম্পন্ন বোলিংয়ের চূড়ান্ত উদাহরণ!’ ১০ রানের আগেই বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। গিলক্রিস্টের ভাষায় সেই পরিস্থিতি ছিল, ‘অস্ট্রেলিয়ানদের পক্ষ থেকে এটি জোরালো বার্তা। তারা রীতিমতো দাপট দেখাচ্ছে।’

১২ রানের মাথায় বাংলাদেশ পঞ্চম উইকেট এবং স্টার্ক ৪ রানের ব্যবধানে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের চার ব্যাটারই (সাদমান-তানজিদ-শান্ত-লিটন) আউট হলেন ডাক (শূন্য) নিয়ে। সেটাকেই ৪টি হাঁস হিসেবে চিহ্নিত করলেন ও’কিফ। ফিল্ডিংয়ে অজি ক্যামেরন গ্রিন ও ব্যু ওয়েবস্টার তিনটি ক্যাচ ধরেছেন, প্রায় সাড়ে ৬ ফুট উচ্চতার দুই ক্রিকেটারকে জিরাফ এবং সিংহ হিসেবে উল্লেখ করার জন্য নাথান লায়ন তো ছিলেন–ই!
বাকি রইল বাঘ! বাংলাদেশ আগের ম্যাচে দাপট দেখিয়ে আগ্রাসী বাঘের রূপ ধরেছিল। কিন্তু কুইন্সল্যান্ডের বাতাসকে কাজে লাগিয়ে সুইং ও গতিময় বোলিংয়ে তাদের নাস্তানাবুদ করেছেন স্টার্করা। ফলে ওয়াহ’র ভাষায়, বাঘ এবার ম্যাকাই নামক চিড়িয়াখানায় ক্ষতবিক্ষত!
এএইচএস
