হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে ইনিংস এবং ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। যেখানে তারা দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারায়। প্রথম ইনিংসে ওলি রবিনসনের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ০ রানে ফেরেন আজান আওয়াইস। দ্বিতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ৫ বল খেলে শূন্য রানে আউট হন ইমাম-উল-হক। দুই ক্ষেত্রেই স্কোরবোর্ডে পাকিস্তানের দলীয় রান ছিল শূন্য।
টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংসের শুরুতেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ম্যাচের দুই ইনিংসেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করে পাকিস্তান বিরল এক রেকর্ড গড়ল। এ নিয়ে সপ্তমবার একই টেস্টের দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারাল তারা। টেস্ট ইতিহাসে তাদের চেয়ে অধিকবার বিব্রতকর ওই নজির নেই আর কোনো দলের।
৪৭২টি টেস্ট খেলে পাকিস্তান সাতবার এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৬৮ টেস্টে একবার। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ড ১০৯৮ টেস্টের মধ্যে পাঁচবার দুই ইনিংসেই শূন্য রানে উইকেট হারিয়েছিল। যা প্রায় প্রতি ২২০ ম্যাচে একবার।
একই টেস্টের দুই ইনিংসেই শূন্য রানে উইকেট হারানোর পরিসংখ্যান
পাকিস্তান — ৭ বার
ইংল্যান্ড — ৫ বার
অস্ট্রেলিয়া — ৪ বার
ভারত — ২ বার
এ ছাড়া নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ বার করে টেস্টের উভয় ইনিংসেই শূন্য উইকেট হারায়।

১৯৭৯ সালের মার্চে প্রথমবার নজির গড়েছিল পাকিস্তান। পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারায়। এর তিন বছর পর ১৯৮২ সালের জুলাইয়ে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মোট তিনবার এমন ঘটনার মাঝে সেটাই ছিল প্রথম।
এরপর ১৫ বছরের বিরতি। ১৯৯৭ সালের এপ্রিলে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারও একই পরিস্থিতিতে পড়ে পাকিস্তান। ওই টেস্টের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ইনিংসেই পাকিস্তানের ওপেনাররা গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। ২০০০ ও ২০১০-এর দশকে আবারও এমন ঘটনা ঘটে। ২০০২ সালের অক্টোবরে শারজায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং ২০১৩ সালের অক্টোবরে দুবাইতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। দুই ক্ষেত্রেই ঘটনাটি ঘটে প্রথম ও তৃতীয় ইনিংসে।
এ ছাড়া গতকাল শেষ হওয়া ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে পাকিস্তান সর্বশেষ দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিল ২০২৪ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
এএইচএস
