জাতীয় দলের ফুটবলার আল আমিন ফিফা থেকে ১৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার এত বড় শাস্তির মুখে পড়েননি। আগস্টের প্রথম দিকে ফিফা বাফুফেকে শাস্তির বিষয় জানালেও আল আমিন মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন। আল আমিনকে কেন এক সপ্তাহ পর জানানো হলো এ নিয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আজকের সভায় ফেডারেশনের স্টাফদের জেরা করেছেন। তখন একে অন্যকে বল ঠেলেছেন।
জাতীয় দল বছরে সাত-আট ম্যাচ খেলে। ১৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় আল আমিনের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে। ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আল আমিন ও মিরাজের আর্থিক জরিমানাও রয়েছে। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে সাধারণ সম্পাদককে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আজকের সভায়।
বাফুফে সভাপতি হওয়ার পরপরই গঠনতন্ত্র সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তাবিথ আউয়াল। কিন্তু চার বছরের কমিটির দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও গঠনতন্ত্র সংস্কার হয়নি। বাফুফের খসড়া গঠনতন্ত্র ফিফায় পাঠানো হয়েছে। সেটার ফিডব্যাকের অপেক্ষায় রয়েছে ফেডারেশন।
ফিফা থেকে গঠনতন্ত্র নিয়ে নির্দেশনা পেলে বাফুফে আরেকটি জরুরি সভায় বসবে। সেই সভায় গঠনতন্ত্র অনুমোদন হলে বার্ষিক সাধারণ সভায় উঠবে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হলে নতুন গঠনতন্ত্র কার্যকর হবে। বাফুফে গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে একটি কমিটি করেছিল। সেই কমিটি খসড়া দাঁড় করায়। সেটা নির্বাহী সভায় বিশ্লেষণ হয়ে ফিফায় পাঠানো হলেও এখনো কোনো নির্দেশনা পায়নি ফেডারেশন।
আজকের সভায় অন্যতম এজেন্ডা ছিল বাফুফের বার্ষিক সাধারণ সভা নির্ধারণ। সাধারণ সভা করতে হলে অডিট রিপোর্ট প্রয়োজন। সেই অডিট এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাই এজিএমের দিনক্ষণ ঠিক করতে পারেনি। এর আগে এজিএমের তারিখ ঠিক করলেও অডিট রিপোর্ট না হওয়ায় এজিএম স্থগিত করতে বাধ্য হয়। অডিট কমিটি সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে কিছু বিষয় সম্পাদনের নির্দেশনা দিয়েছে।
বাফুফে আগস্টে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করতে চায় আসিয়ান কাপের জন্য। সেপ্টেম্বর উইন্ডোর আগে ক্লাবগুলো খেলোয়াড় না ছাড়লে জটিলতা হবে। আবার জাতীয় দলের ম্যাচের সময় লিগ, ফেডারেশন কাপ খেলা নিয়ে ক্লাবগুলোর আপত্তি থাকতে পারে। তাই ৩ সেপ্টেম্বর দলবদল শেষ হলে ক্লাব প্রতিনিধি নিয়ে পুনরায় বসতে চান ফেডারেশন সভাপতি। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ও ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান আজকের মিটিংয়েও অনুপস্থিত ছিলেন।
বাফুফে নির্বাহী ও স্ট্যান্ডিং কমিটির কেউ ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচে ডাগ আউটে থাকতে পারে না। মোহামেডানের গোলরক্ষক কোচ ছাইদ হাসান কানন ডাগ আউটে থাকার আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে সভাপতি বলেছেন, পরবর্তীতে এটি এজেন্ডা আকারে আলোচনায় আনতে।
এজেড/এইচজেএস
