বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীর পর ম্যাকাই টেস্টে কার্যত বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা শরিফুল ইসলাম। প্রথম দিনেই তিনি ৬ উইকেট শিকার করেন। তখনও টাইগারদের ঘাড়ে চেপে বসেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। শরিফুল এবার তাকেও থামালেন দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে। যা দেখে সাবেক অজি ক্রিকেটার ব্রেন্ডন জুলিয়ান বললেন, ‘যেন নব্বইয়ের দশকে ওয়াসিম আকরামের মতো ডেলিভারি।’
শরিফুলের ওই ডেলিভারিটি ইয়র্কার লেন্থে পড়ে শেষদিকে সুইং করে গ্রিনের বুটের ডগায় আঘাত করে। বাংলাদেশের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে ধরা পড়ে গ্রিনকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য করা বলটি তার বুটে লেগেছে এবং সেটি আঘাত করত মিডল স্টাম্পে। হতাশা কাটিয়ে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ।
এর মধ্য দিয়ে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিদেশের মাটিতে টেস্টে ৭ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন শরিফুল। এমনকি গত ৩৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক ইনিংসে ৭ উইকেট (২৫/৭) পায়নি কোনো বিদেশি বোলার। ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ ক্যারিবীয় কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোস সফরকারী বোলার হিসেবে ওই কীর্তি গড়েছিলেন। ৩৩ বছর পর অজি ভূমিতে সেই দৃশ্য ফেরালেন শরিফুল।
এ ছাড়া দেশের বাইরে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এতদিন টেস্টে সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার ছিল স্পিনার তাইজুল ইসলামের। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই মাস আগে তিনি ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। এখন সেটি বাঁ–হাতি পেসার শরিফুলের দখলে (৪৮/৭)।
— cricket.com.au (@cricketcomau) August 23, 2026
লাল বলের ফরম্যাটে এর আগে বাংলাদেশের কোনো পেসারের ৭ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড ছিল না। সেক্ষেত্রেও প্রথম ব্যক্তিটি শরিফুল। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শাহাদাত হোসেন রাজিব ২৭ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদের বোলিং ফিগার ছিল ৫৫/৬।
১৮ বছর পর রাজিবের ওই রেকর্ড ভাঙার কাছাকাছি ছিলেন হাসান। তবে সেটি ভাঙলেন শরিফুল। তার ৪৮/৭ বিদেশের মাটিতে টাইগার পেসারদের মাঝেও সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার।
— Cricinfo (@cricinfo) August 23, 2026
এখনও অবশ্য সবমিলিয়ে টেস্টে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সেরা ফিগার তাইজুলের। ২০১৪ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি ৩৯ রানে ৮ উইকেট শিকার করেন। এর ৬ বছর আগে (২০০৮) চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ৩৬ রানে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। সে হিসেবে তৃতীয় নামটি শরিফুলের। যদিও তিনি অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে গড়লেন ৭ উইকেটের কীর্তি।
এএইচএস
