বিজ্ঞাপন

‘বাতিল’ দলের কাছে হেরে ম্যানইউর দুঃস্বপ্নের মতো শুরু

‘বাতিল’ দলের কাছে হেরে ম্যানইউর দুঃস্বপ্নের মতো শুরু

প্রিমিয়ার লিগে ফিরে সংশয়বাদীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হাল সিটি। প্রায় প্রত্যেক ফুটবল বিশ্লেষকরা সার্জেই জাকিরোভিচের প্লে-অফ বিজয়ীদের ‘বাতিল’ গণ্য করেছিল। ইংল্যান্ডের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার জো কোল বলছিলেন, এই দলটির চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত। তার এমন মন্তব্যে স্বাগতিক ভক্তরা ক্ষুব্ধ ছিল।

কিন্তু নতুন মৌসুম শুরু হতেই সবাইকে হতবাক করে দিলো হাল সিটি। শনিবার তাদের গর্জন দেখল ফুটবল সমর্থকরা। প্রথমার্ধেই জোড়া গোলে জয় দিয়ে লিগে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখল হাল সিটি। তাদের কাছে ২-০ হোলে হেরে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

১৭ মিনিটে একটি কর্নার পায় হাল সিটি। সেটি বিপদমুক্ত করতে পারেনি ম্যানচেস্টার ক্লাব। সেমি আজায়ি খোলেন গোলমুখ। মাইকেল ক্যারিকের দল আবার পিছিয়ে পড়ে। ৩৮ মিনিটে রেগান স্লেটারের ফ্রি কিক থেকে অভিষিক্ত নোবেল মেন্ডি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

গত মে মাসে রেড ডেভিলদের প্রধান কোচ হিসেবে চাকরি পাকা হয়েছিল ক্যারিকের। ইস্ট ইয়র্কশায়ারে চ্যালেঞ্জিং শুরুর ব্যাপারে দলকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। কিন্তু তৃতীয় স্থানে থেকে গত মৌসুম শেষ করা দলের এমন দুর্বল পারফরম্যান্স তার কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।

হালের কাছে প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগে হার ক্যারিককে নতুন করে ভাবাবে। আর ২০১৭ সালের পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ খেলতে নেমে পাওয়া জয় হালের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

১৯৭৪ সালের পর প্রিমিয়ার লিগে ম্যানইউর বিপক্ষে প্রথম জয় পেয়েছে হাল। প্রথম ম্যাচের ফলে ‘কষ্ট’ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ক্যারিক। কিন্তু এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু দেখছেন না তিনি, ‘শান্ত থাকা কথাটার অর্থ একেক জনের কাছে একেক রকম, বুঝতে পারছেন? আমি এখন (সংবাদ সম্মেলনে) আপনাদের সাথে বেশ শান্তভাবেই কথা বলছি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি ভেতর থেকেও শান্ত আছি এবং আজকের দিনটা উপভোগ করছি, বুঝতেই পারছেন। তাই এই দুটোর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।’

তিনি বলে গেলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এখানে খেলেছি। দিনের পর দিন ফলাফলের ভালো-মন্দ বা ওঠানামা সামলে না নিয়ে শুধু স্বাভাবিকভাবে চলাই এখানে দীর্ঘদিন খেলার একমাত্র পথ নয়। ব্যাপারটা শতভাগ সেরকম নয়, আর আমাকে বিশ্বাস করুন, সত্যি সেরকম নয়।’

ক্যারিক বললেন, ‘এর মানে এই নয় যে শুধু এটার জন্যই আমাদের সবাইকে চিৎকার-চেঁচামেচি করে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে হবে, বুঝতে পারছেন? ভেতরে ভেতরে আমরা কষ্ট পাচ্ছি, ছেলেরা সেটা জানে, আর আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। তবে শান্ত থাকার মানে কিন্তু এই নয় যে এর মধ্যে কোনো আবেগ নেই, এটা নিশ্চিত।’

এফএইচএম