ডারউইনের চেয়ে ম্যাকাই টেস্টে বেশি সুইং, সিম মুভমেন্ট এবং বাউন্স পাচ্ছেন বোলাররা। যার দৃষ্টান্ত মিলেছে গতকাল (শনিবার) দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনেই। উভয় দল খেলা শুরুর দিনেই ১৮ উইকেট হারিয়েছে। আর আজ দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই ৫ উইকেটের পতন। যা মাত্র দু’দিনেই চলমান ম্যাচ শেষ হওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
ডারউইনে বাংলাদেশ ইতিহাসগড়া জয় পেয়েছিল সাড়ে তিন দিনে। তবে কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাই বোলারদের জন্য আরও বেশি সহায়ক হয়ে উঠেছে। ফলে প্রথম ইনিংসে উভয় দল মিলে তোলে মাত্র ২৭৪ রান। মিচেল স্টার্কের ৬ উইকেট শিকারের সুবাদে বাংলাদেশের ইনিংস মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর শরিফুল ইসলাম ৭ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করেন।
ম্যাকাইয়ে খেলা প্রথম দুই দিন এবং ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বলের গতিবিধির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে অজি সংবাদমাধ্যম ক্রিকেটডটকম ডটএইউ। যেখানে আগের টেস্টের চেয়ে ম্যাকাইতে সুইং-বাউন্স দুটোই বেশি পাচ্ছেন বোলাররা। ডারউইনে সিম ছিল ৮.৫ সেন্টিমিটার, আর ম্যাকাইতে সেটি ৯.১। এ ছাড়া ডারউইনের সুইং ১৮ ও ম্যাকাইতে ২৮.৫ সেন্টিমিটার; ডারউইনে বাউন্স ৭৪.৯ এবং ম্যাকাইতে সেটি পৌঁছেছে ৮০.৯ সেন্টিমিটারে।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় এর আগে মাত্র তিনবার দু’দিনেই টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৩১ সালে মেলবোর্নে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ এমন নজির দেখে। একই দৃশ্য দেখতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৯১ বছর। ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দু’দিনে শেষ হয়েছিল ২০২২ সালে। এর তিন বছর পর ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের পার্থ টেস্টও (অ্যাশেজ) একই পরিণতি দেখেছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় চতুর্থবার দু’দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার দৃশ্য দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ম্যাকাই টেস্টে। যেখানে শান্ত-মুশফিকদের বিপক্ষে প্যাট কামিন্সের দল ১৪৬ রানের লিড নিয়েছে। ফলে ম্যাচ কতদূর গড়াবে তা অনেকটা নির্ভর করছে সফরকারী বাংলাদেশের ওপর। ব্যাটিংয়ে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারলে যেমন ম্যাচের রোমাঞ্চ বাড়বে, তেমনি বাড়বে খেলার দৈর্ঘ্যও।
এএইচএস
