অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ম্যাকাইতে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা অজিদের কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে গেল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে তাদের অবনতি হলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।
৬ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ ৩ জয়, ২ ড্র ও এক হার নিয়ে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই চতুর্থ স্থানে আছে। তবে শতকরা পয়েন্ট হারে (পিসিটি) বড় পতন হয়েছে তাদের। ডারউইন টেস্ট জিতে তাদের পিসিটি ছিল ৬৬.৬৭। সবশেষ হারে তা নেমে গেছে ৫৫.৫৬ তে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান কলম্বো টেস্টে ভারত খেলছে ৫৩.৩৩ পিসিটি নিয়ে।
তবে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। অবিশ্বাস্য কিছু করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে উন্নতি ও ফাইনালের সমীকরণে টিকে থাকারও সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চতুর্থ চক্রে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে ৬টি টেস্ট। এই চক্রে বাংলাদেশের বাকি আরও ৬ ম্যাচ। এই অ্যাওয়ে সিরিজের পর তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে হোম, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অ্যাওয়ে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে। প্রতিটি সিরিজেই টেস্ট ম্যাচ হবে দুটি করে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। ফাইনালের জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ পয়েন্ট পেতে তাদের আরও ৪৭ পয়েন্ট পেতে হবে।
সেক্ষেত্রে বাকি ছয়টি টেস্টের মধ্যে অন্তত চারটিতে জিততে হবে বাংলাদেশ। তিনটি জয় ও দুটি ড্র হলে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়াবে ৫৮.৩৩-এ, যা হয়তো যথেষ্ট হবে না। তাই লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে অন্য দলগুলোকে চমকে দিতে হলে লিটন-মুশফিকদের নিজেদের সেরাটা উজাড় করে খেলতে হবে। এর আগে শুরুটা তারা দারুণভাবেই করেছিল।
চলমান চক্রে শ্রীলঙ্কার মাটিতে গলে ড্র দিয়ে টেস্ট অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে কলম্বোতে তারা দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায়। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল শান্তর দল। এরপর অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও ১-০ তে এগিয়ে যায়। তবে তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড (১০ বছর পর) সিরিজ আয়োজন করবে ঘরের মাঠে।
অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক সূচনার আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে বাকি ছয় ম্যাচেও চমক দেখাতে চাইবে বাংলাদেশ। সবশেষ বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৬ সালে। চট্টগ্রামে ২২ রানে হারলেও মিরপুরে বাংলাদেশ জিতেছিল ১০৮ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও বাংলাদেশ তাদের সবশেষ টেস্ট জিতেছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কিংসটনে ১০১ রানের স্মরণীয় জয় পেয়েছিল তারা। আর ক্যারিবিয়ানদের ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দিয়ে শেষবার তাদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল ২০০৯ সালে! কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সব মিলিয়ে ১৬ টেস্ট খেলে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ।
এই চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে অষ্টম জয়ে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান মজবুত করল। কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পিসিটি ৮০.০০, দক্ষিণ আফ্রিকার ৭৫.০০। নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ পিসিটি নিয়ে তিনে। বাংলাদেশ তাদের পরে অবস্থান করছে। ভারত পঞ্চম স্থানে। ইতোমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।
এফএইচএম
