টেস্টে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। দেশের বাইরেও লাল বলের ক্রিকেটে তাদের ঈর্ষণীয় উন্নতি দেখা গেছে। সম্প্রতি ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে স্বাগতিকদের হারিয়ে চমকে দিয়েছে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকা স ফরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দেবে বাংলাদেশ, এমনটাই বিশ্বাস করেন সাবেক প্রোটিয়া তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স।
তার মতে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ দেশের বাইরেও শক্তিশালী দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার সামর্থ্য রাখে। ডারউইনে ১১ সেশনজুড়ে দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। এশিয়ার যে কোনো দেশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের ইতিহাস তারা গড়েছিল।
অবশ্য ম্যাকাইতে অস্ট্রেলিয়া পাল্টা জবাব দেয়। মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ এ ড্র করেছে। দ্বিতীয় টেস্টে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেও সিরিজে বাংলাদেশের সার্বিক পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এই বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় চ্যালেঞ্জিং সফরের আগে তাদের মনোবল বেড়েছে।
ডি ভিলিয়ার্স বিশ্বাস করেন, দক্ষিণ আফ্রিকান কন্ডিশনেও একই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দেবে। সফরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি হলো দক্ষিণ আফ্রিকা, বিশেষ করে ব্যাটারদের জন্য। এখানে বল পিচে পড়ে সুইংই শুধু করে না, পাশাপাশি সিম মুভমেন্টও করে। খুব বেশি খেলোয়াড় এই পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত নন। এর সামাল দেওয়া সত্যিই বেশ কঠিন।’
দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক ব্যাটার আরও বলেন যে, এমন পেস ও সিম সহায়ক পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে ব্যাটারদের ক্রিজে স্থির না থেকে সক্রিয় হতে হবে। তার কথা, ‘আমার নিজের কথা যদি বলি, এর সামাল দেওয়ার জন্য আমার কিছু কৌশল ছিল। কখনো ক্রিজ ছেড়ে সামনে বেরিয়ে আসতাম, কখনো স্টাম্প পুরোপুরি ঢেকে রাখতাম, আবার কখনো স্টাম্প উন্মুক্ত করে খেলতাম, যেভাবে আমি পরিস্থিতি বুঝতাম।’
তিনি যোগ করলেন, ‘এই ধরনের সিমিং কন্ডিশনে এটাই আপনাকে করতে হবে। শুধু স্টাম্প ঢেকে রেখে সারাদিন টিকে থাকলেই হবে না। অবশ্যই আপনাকে সক্রিয় হতে হবে।’
আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলবে বাংলাদেশ। দুটি টেস্টের সঙ্গে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিও রয়েছে। প্রথম টেস্ট জোহানেসবার্গে চলবে ১৫-১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। সেঞ্চুরিয়ানে দ্বিতীয় ম্যাচ ২৩-২৭ নভেম্বর।
এফএইচএম
