বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সঙ্গে শেষ টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ার সমালোচনায় গাভাস্কার

বাংলাদেশের সঙ্গে শেষ টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ার সমালোচনায় গাভাস্কার

সাড়ে তিন দিনে শেষ হয়েছিল বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন টেস্ট। এরপর দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ম্যাকাইতে ফলাফল এসেছে দ্বিতীয় দিনের আড়াই ঘণ্টা বাকি থাকতেই। প্রথম টেস্টে একপেশে দাপট দেখানো বাংলাদেশ সেটিতে হারল ইনিংস ব্যবধানে। পেস উইকেট বানিয়ে এত দ্রুত টেস্ট শেষ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।

ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্ট স্থায়ী হয়েছে পাঁচ সেশনের সামান্য বেশি সময়। প্রথম দিনেই পড়েছিল ১৮ উইকেট। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক। অন্যদিকে, দিনের শেষদিকে ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ধসিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম, পরদিনও আরও একটি উইকেট নেন তিনি। দ্বিতীয় দিন পড়েছে আরও ১২ উইকেট। স্টার্ক-প্যাট কামিন্স মিলে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেন ৯৪ রানে।

ভারতের স্পিন সহায়ক পিচ নিয়ে অতীতে যে ধরনের সমালোচনা হয়েছে, ম্যাকাইয়ের উইকেটের সঙ্গে তার তুলনা করে গাভাস্কার এই দ্বৈত আচরণকে ‘নির্লজ্জ ভণ্ডামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু’তে প্রকাশিত একটি কলামে তিনি লেখেন, অস্ট্রেলিয়ায় গত কয়েক বছরে চারটি টেস্ট দুই দিনে শেষ হলেও এমন উইকেট নিয়ে সমালোচনা শোনা যায়নি।

গাভাস্কারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার এমন ফলাফলের ক্ষেত্রে নানা অজুহাত সামনে আনা হয়। যেমন– আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী মাঠকর্মীরা বেশি ঘাস রেখে দিয়েছিলেন, যার ফলে উইকেটে অতিরিক্ত বাউন্স তৈরি হয়েছে। আরেকটি যুক্তি দেওয়া হয়, ব্যাটারদের এমন বাউন্স সামলানোর মতো কৌশল ছিল না এবং সমস্যাটি উইকেটে নয়, ব্যাটিংয়ে। একইসঙ্গে গাভাস্কারের দাবি– যদি স্বাগতিক দলের ব্যাটাররাও রান করতে বা ভালো জুটি গড়তে ব্যর্থ হন, তাহলে উইকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?

এদিকে, ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাত্র ৭৫০ বলে খেলা শেষ হয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং বিশ্ব ক্রিকেটে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম টেস্ট। তবে সেভেন ক্রিকেটের প্রধান প্রতিবেদক টম মরিস জানিয়েছেন, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেটকে ম্যাচ রেফারি ‘খুব ভালো’ হিসেবে রেটিং দিতে পারেন। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাভাস্কার, পুরোনো ক্রিকেটীয় শক্তিধর দেশগুলোর গণমাধ্যমের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার একটা প্রবণতা ম্যাচ রেফারিদের মধ্যে দেখা যায়। তাই ম্যাকাইয়ের উইকেটের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক রেটিং না এলেও অবাক হবেন না তিনি।

এরপর ভারতীয় কন্ডিশনে দ্রুত টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে গাভাস্কার বলছেন, ভারতে কোনো টেস্ট তিন দিনে শেষ হলেই উইকেট, বিসিসিআই এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে নানা অবমাননাকর প্রতিবেদন ও মন্তব্য শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় একই ধরনের ঘটনা ঘটলে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখা হয়। দ্রুতগতির ও বাউন্সি উইকেটে ব্যাটাররা ব্যর্থ হলে তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু উপমহাদেশের ধীর ও স্পিন সহায়ক উইকেটে বিদেশি ব্যাটাররা স্পিন সামলাতে ব্যর্থ হলে বলা হয়, উইকেটে ‘অদৃশ্য সমস্যা’ ছিল।

ভিন্ন দুটি কন্ডিশন নিয়ে ভাবনার দিক থেকে আরেকটি পার্থক্য তুলে ধরেছেন গাভাস্কার, দ্রুতগতির উইকেটে রান করতে না পারা ব্যাটারদের অনেক সময় ভালো ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। অথচ ধীর উইকেটে উইকেট নিতে ব্যর্থ পেসারদেরও অনেক সময় ‘গ্রেট’ বলা হয়। এই মুহূর্তে ম্যাচ রেফারি ম্যাকাই উইকেট নিয়ে কি রেটিং দেন তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ভারতীয় এই কিংবদন্তি।

এএইচএস